,

সাত হাজার শিক্ষার্থীকে বিনামূল্যে পড়ালেখার সুযোগ দিচ্ছে চসিক: মেয়র

নগরের নন্দন: শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের অর্থায়নে পাথরঘাটা সিটি কর্পোরেশন মহাবিদ্যালয়ের এ ভবন নির্মিত হয়। ৫ তলা বিশিষ্ট ৩৩ শত বর্গফুট বিশিষ্ট এই একাডেমিক ভবণ নির্মাণে ব্যয় হয় ৩ কোটি ২০ লক্ষ টাকা। এতে সমৃদ্ধ আইসিটি সুবিধা সহ ক্লাসরুম স্বতন্ত্র ফিজিক্স, ক্যামিস্ট্রি, বায়োলজি, কম্পিউটার ল্যাব, লাইব্রেরী, মাল্টিপারপাস হল রুম, গালর্স কমন রুম, মেডিকেল রুম, মিটিং রুম, শিক্ষক রুম, টিচার্স কমন রুম, এডমিশন ও একাউন্ট সেকশন, ক্যান্টিন ও বাথরুম ব্লক রয়েছে।

১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ সোমবার সকালে ভবন উদ্বোধন উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাননীয় মেয়র বলেন, ঝরে পড়া শিক্ষার্থী রোধে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন তাঁর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রতি বছর প্রায় সাত হাজার শিক্ষার্থীকে বিনা বেতনে পড়ার সুযোগ দিচ্ছে।

মেয়র বলেন, বর্তমান সরকারের ২০২১ ও ২০৪১ রূপকল্প বাস্তবায়নে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল, সৃষ্টিশীল, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমৃদ্ধ বিশ্বমানের নাগরিক গড়ে তোলাই এর উদ্দেশ্য। তিনি বলেন নগরে সরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আছে মাত্র ৯টি। এই সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়ম বহির্ভুত কোনো শিক্ষার্থী ভর্তি হওয়ার সুযোগ নেই। স্বভাবতঃ ভর্তি হতে না পারলে একজন শিক্ষার্থী শিক্ষা জীবন থেকে ঝরে পড়ার সম্মুখ সম্ভাবনা থাকে। সেই ক্ষেত্রে শিক্ষার আলোকবর্তিকা নিয়ে এগিয়ে এসেছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন। বর্তমানে এই প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ৯০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছে। এই সমস্ত প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৬০ হাজার শিক্ষার্র্থী লেখা পড়া সুযোগ পাচ্ছে।

এই প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, সরকারের বই বিতরণ কার্যক্রম ঝরে পড়া রোধে একটি বিরাট সাফল্য। আগে বাবা-মা কবে বই কিনে দেবে, সেই জন্য শিক্ষার্থীদের স্কুলে যাওয়ায় বিলম্ব হতো। আর এখন বছরে প্রথম দিনেই সব শিক্ষার্থী বই পাচ্ছে। বইয়ের জন্য এখন আর চিন্তা করতে হচ্ছে না। তিনি বলেন, শিক্ষার্থী ঝরে পড়া রোধে এখন প্রয়োজন শিক্ষক, অভিভাবক ও স্কুল পরিচালনা পর্ষদের আন্তরিকতা। শিক্ষকগন যথাসময়ে বিদ্যালয়ে উপস্থিত হন, পাঠ পরিকল্পনা ও উপকরণ নিয়ে শ্রেণী কক্ষে যান এবং আকর্ষণীয়ভাবে পাঠদান করেন তাহলে শিক্ষার্থী ঝরে পড়া অনেকাংশে কমে যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। মেয়র বলেন, আলোকিত সমাজ গড়তে শিক্ষার কোন বিকল্প নাই। শিক্ষিত জাতি গঠনে রাষ্ট্রের পাশাপাশি শিক্ষক সমাজসহ অভিভাবকদের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ। প্রত্যেক অভিভাবক চান তার সন্তান সুশিক্ষায় শিক্ষিত হউক। দেশ ও সমাজের কল্যাণে ভূমিকা রাখুক। জাতির এই প্রত্যাশা পুরণে ছাত্র শিক্ষক ও অভিভাবকের সম্মিলিত প্রয়াস প্রয়োজন।

সম্মানিত কাউন্সিলর মো. ইসমাইল বালীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় সংরক্ষিত সম্মানিত কাউন্সিলর লুৎফুনন্নেছা দোভাষ বেবী, প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা সুমন বড়–য়া, সাবেক কাউন্সিলর মো. জালাল উদ্দিন ইকবাল, পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ফজলে আজিজ বাবুল বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে কলেজের অধ্যক্ষ মো. ফরহাদুর রহমান চৌধুরী শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে রাজনীতিক সফিকুর রহমান সিকদার,আবছার আহমদ, আশফাক আহমদ,আনিসুল হক, পুলক খাস্তগীর, সুমন, প্রকৌশলী মো. দিলদার হোসেন ও রবীন্দ্র-নজরুল একাডেমীর অধ্যক্ষ উপস্থিত ছিলেন। ভবন উদ্বোধন শেষে দেশ জাতির সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ দোয়া ও মুনাজাত করা হয়।

এম.এ/১৪৪

মতামত