,

অবশেষে কর্ণফুলী নদীর উত্তর পাড়ে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ শুরু

দিদারুল ইসলাম: অবশেষে কর্ণফুলী নদীর উত্তর পাড়ে দুই হাজারের বেশী অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ শুরু করেছে জেলা প্রশাসন।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাহমিলুর রহমান এর নেতৃত্বে উচ্ছেদ অভিযানে অংশ নিয়েছে র‌্যাব, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিসসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্যরা।

অভিযানে শতাধিক শ্রমিক, বুলডোজার, স্ক্যাভেটার, পে-লোডার, ট্রাকসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম দিয়ে উচ্ছেদ করছে অবৈধ স্থাপনা। ইতিপূর্বে নদীর সীমানা নির্ধারণসহ অবৈধ স্থাপনাগুলো চিহ্নিত করা হয়েছিলো। আজ সোমবার সকাল থেকে আলোচিত এই উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়। এক্ষেত্রে কোন প্রভাবশালীকেই ছাড় দেয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন ভুমিমন্ত্রী। আর নদী বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু উচ্ছেদ করলেই হবে না। দখলদাররা যেন আর ফিরে না আসতে পারে সেজন্য নদীপাড়ে রাস্তা বানাতে হবে।

বছরের পর বছর ধরে এভাবেই হাজার হাজার অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠেছে কর্ণফুলী নদীর দু’পাড়ে। কোথাও কোথাও ছিন্নমুল মানুষদের ভাড়াটে ও ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে, নদীর জমি দখলে নিয়ে ব্যবসা করছে ভুমিদস্যুরা। এর আগে প্রশাসনের পক্ষ থেকে একাধিকবার এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের উদ্যোগ নিলেও আদালতের স্থগিতাদেশ এনে তা ঠেকিয়ে দিতে সক্ষম হয় দখলদাররা। তবে এবার নদী বাঁচাতে সেই আদালতের নির্দেশে হচ্ছে উচ্ছেদ অভিযান ।

আর কর্ণফুলী গবেষকরা বলছেন, উচ্ছেদ অভিযানের পর ফের যাতে দখল না হয় সেজন্য দিতে হবে শাস্তি, আর নদীপাড়ে বানাতে হবে সড়ক। গত শনিবার উচ্ছেদ অভিযানের প্রস্তুতি দেখতে এসে ভূমিমন্ত্রী বলেন, কর্ণফূলী রক্ষায় কোন প্রভাবশালীকে আর ছাড় দেয়ার সুযোগ নেই। বঙ্গপোসাগরের মোহনা থেকে কালুরঘাট সেতু পর্যন্ত ১৭ কিলোমিটার এলাকা ব্যবহৃত হয় চট্টগ্রাম বন্দরের কাজে। তাই দেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড হিসেবে পরিচিত এই প্রতিষ্ঠানটিসহ জনস্বার্থেই দখল ও দুষণের হাত থেকে কর্ণফুলীকে রক্ষায় অবশেষে আদালতের হস্তক্ষেপেই হচ্ছে এই উচ্ছেদ অভিযান ।

মতামত