,

নুরুল আলম চৌধুরী ছিলেন আপাদমস্তক রাজনীতিক

নাগরিক ডেস্ক: নুরুল আলম চৌধুরী ছিলেন একজন আপাদমস্তক রাজনীতিক।রাজনীতি তার কাছে ব্রত ছিল।রাজনীতিকে ব্যবহার করে তিনি অর্থ বিত্তবৈভবের মালিক হননি। রাজনীতি করে তিনি আজীবন বঙ্গবন্ধুর আদর্শের প্রতি অবিচল ছিলেন। তার মৃত্যুতে চট্টগ্রামে শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে। আরেকজন নুরুল আলম চৌধুরী সৃষ্টি হবে না কখনো।

আজ শুক্রবার বিকেলে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাবেক সংসদ সদস্য ও রাষ্ট্রদূত, মুক্তিযোদ্ধা নুরুল আলম চৌধুরীর শোকসভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

প্রধান অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন। তিনি বলেন, নুরুল আলম চৌধুরী কম কথা বলে কাজ বেশি করতেন। তিনি বলতেন বক্তব্য দেব তিন মিনিট আর তালি নেব পাঁচবার। সত্যিকার অর্থেই তার বক্তব্য ছিল অত্যন্ত শ্রুতি মধুর এবং গোছালো। তার মৃত্যুতে চট্টগ্রামবাসী শোকাহত। বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ করায় তাকে জেলে যেতে হয়েছিল। বঙ্গবন্ধু সরকারের সংসদে ছিলেন সর্বকনিষ্ট সাংসদ। মাত্র ২৭ বছর বয়সে তিনি সাংসদ নির্বাচিত হন। তিনি মৃত্যুকে ভয় করতেন না।

বক্তব্যে তিনি ঐক্যবদ্ধভাবে আওয়ামী লীগকে শক্তিশালী করার প্রত্যয়ের কথা জানান। বিশেষ অতিথি ছিলেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ ও শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী।

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, নুরুল আলম চৌধুরী কর্মী থেকে নেতা হয়েছেন। রাজনীতিকে ব্রত হিসেবে নিয়েছিলেন। তিনি মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে পারতেন। তার সঙ্গে বিরোধী দলের নেতাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক ছিল। তাকে হারিয়ে একজন নিবেদিত রাজনীতিককে হারিয়েছি। তার কাছ থেকে নতুন রাজনীতিকদের অনেক কিছু শেখার আছে।

দক্ষিণ জেলা সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমদ বলেন, নুরুল আলম চৌধুরী আমাদের অহংকার। ইচ্ছে করলে মানুষ ক্ষমতার জন্য আদর্শের সঙ্গে আপস করে। কিন্তু নুরুল আলম চৌধুরী ছিলেন আপাদমস্তক রাজনীতিক।

সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ বলেন, প্রবীণ রাজনীতিক নুরুল আলম চৌধুরী ছিলেন সৎ, সাহসী ও ত্যাগী। বাবার সঙ্গে ১৯৮৬ সালে সংসদে ছিলেন। পারিবারিক সম্পর্ক ছিল আমাদের। তিনি মানুষের কল্যাণে নিবেদিত ছিলেন।

নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, নীতির প্রশ্নে আদর্শিক যোদ্ধা ছিলেন নুরুল আলম চৌধুরী। তিনি সুবিধাবাদী ছিলেন না। মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব, বঙ্গবন্ধু ও দলের প্রশ্নে তিনি কখনো আপস করেননি। বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন ছিল তার।

মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেন, নুরুল আলম চৌধুরী আদর্শের প্রশ্নে পিছপা হননি। আমি শৈশব থেকে বাবার সঙ্গে দেখেছি। অনেক স্মৃতি জড়িয়ে আছে। তার জীবনাদর্শ থেকে শিক্ষা নিয়ে আমাদেরকে দলের আদর্শিক শক্তি বৃদ্ধিতে স্ব স্ব অবস্থান থেকে কাজ করতে হবে।

মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও দক্ষিন জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমানের সঞ্চালনায় নুরুল আলম চৌধুরীর জীবন ও কর্মের ওপর আলোচনা করেন চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, উত্তর জেলা সাধারণ সম্পাদক এমএ সালাম, ফটিকছড়ি থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারী প্রমুখ।

নুরুল আলম চৌধুরীর ছেলে রাহাত জিসান বলেন, বাবা এত জনপ্রিয় ছিলেন জানতাম না। বাবা ‘বঙ্গবন্ধুর সাংসদ’ পরিচয় দিতে গর্ববোধ করতেন। আমার বাবাকে বছরের প্রতিটি দিন সংগঠন স্মরণে রাখবে এটাই কামনা করি। বাবার জন্য শোকসভা করায় সকল নেতৃত্বকে কৃতজ্ঞতা জানাই।

এম.এ/১০১

মতামত