,

একুশে বইমেলায় আসছে আতিক হেলালের দুটি বই

নাগরিক ডেস্ক: এবারের একুশে গ্রন্থমেলা-২০১৯ এ- আতিক হেলালের দুটি বই আসছে। এর মধ্যে তার ‘ছড়াসমগ্র’ ইতোমধ্যেই প্রকাশিত হয়েছে। এটি প্রকাশ করেছে কুষ্টিয়া প্রকাশন। প্রচ্ছদ করেছেন সাইফ আলি। ১০ ফর্মার এই বইটির মূল্য ২৫০ টাকা। বইটিতে আতিক হেলালের বাছাই করা প্রায় দেড়শ’ ছড়া অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। যেগুলো পাঠকদের বিশেষভাবে ভালো লাগবে বলে আশা করা যায়।
এছাড়াও মেলায় আসছে আতিক হেলালের প্রথম গল্পের বই ‘পারা না পারার গল্প’। বাস্তব কিছু ঘটনাকে উপজীব্য করে লেখা কয়েকটি গল্পসহ মোট ১০টি গল্প স্থান পেয়েছে বইটিতে। এটিরও প্রচ্ছদ করেছেন সাইফ আলি। প্রকাশ করেছে পায়রা প্রকাশ। ৪ ফর্মার এই বইটির দাম ১৬০ টাকা।
বই দুটি পাওয়া যাবে একুশে গ্রন্থমেলার পায়রা প্রকাশ (স্টল ৩৩৭) ও জ্ঞান বিতরণী স্টলে।
সরাসরি লেখক / প্রকাশকের কাছ থেকেও বই কেনা যাবে। যোগাযোগ : ০১৭১১০৩১০৩৪ / ০১৮৩০১০০১০০।

আতিক হেলালের লেখালেখি শুরু হয় ১৯৮৬ সালে। মাধ্যমিক স্কুলে পড়ার সময় থেকেই তিনি লেখালেখি ও সাংবাদিকতায় সম্পৃক্ত হন। তাঁর প্রথম লেখা (ছড়া) ছাপা হয় ১৯৮৬ সালে স্কুল-ম্যাগাজিনে, যেটির সম্পাদক ছিলেন প্রিয় শিক্ষক মিলন সরকার। তিনি আতিক হেলালকে ওই ম্যাগাজিনের ছাত্র-সম্পাদকও মনোনীত করেছিলেন।
একই বছরে আতিক হেলালের লেখা ছাপা হয় একটি পত্রমিতালী-পত্রিকায়, নাম ‘সোহাগ’। এই বছর থেকেই তার লেখা বাংলাদেশ ও ভারতের বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হতে থাকে। তিনি কুষ্টিয়ার স্থানীয় সাপ্তাহিক ‘ইস্পাত’ ও ‘জাগরণী’ পত্রিকায় সাংবাদিকতা শুরু করেন। ১৯৮৭ সালের ২ জুলাই প্রকাশিত বৃহত্তর কুষ্টিয়ার প্রথম দৈনিক সংবাদপত্র ‘বাংলাদেশ বার্তা’র সূচনালগ্ন থেকে তিনি সেটির সহ-সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তি পর্যায়ে তিনি স্থানীয় দৈনিক ‘আন্দোলনের বাজার’, দৈনিক ‘দেশভূমি’ ও সাপ্তাহিক ‘দেশব্রতী’সহ আরও অনেক পত্রিকায় বার্তা-সম্পাদকসহ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। সর্বশেষ, তিনি কুষ্টিয়ার দৈনিক ‘সূত্রপাত’ পত্রিকা প্রকাশের ক্ষেত্রে অন্যতম উদ্যোক্তা ছিলেন এবং তিনি এই পত্রিকাটির ভারপ্রাপ্ত সম্পাকের দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ১৯৯৩ সালের শেষের দিকে তিনি ঢাকায় চলে আসেন।
কলেজ-জীবনে তিনি ‘অভিরাম’, ‘সূর্যোদয়’, ‘যৌবন’, ‘প্রিয়, ‘নিকোটিন’, ‘তোড়া’, ‘আয়োজন’, ‘প্রজন্ম’সহ অনেকগুলো লিটল ম্যাগাজিন সম্পাদনা করেন।

পেশাগত জীবনে তিনি দীর্ঘদিন সক্রিয় সাংবাদিকতা করেন। ঢাকায় তিনি সাপ্তাহিক বিক্রম, দৈনিক সবুজ দেশ এবং সর্বশেষ ১৯৯৮ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকায় সহ-সম্পাদক ও স্টাফ রিপোর্টারের দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০০৩ সালের ডিসেম্বরে তিনি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ ও প্রকাশন দফতরের সহকারী পরিচালক পদে যোগ দেন। ২০১১ সালের অক্টোবর থেকে প্রায় এক বছর তিনি দৈনিক বাংলাবাজার পত্রিকার ডেপুটি চীফ রিপোর্টার ছিলেন। বর্তমানে তিনি পাক্ষিক ‘অর্থবীমা’ পত্রিকার সম্পাদক এবং অনলাইন পত্রিকা গ্লোবটুডেবিডি.কম-এর নির্বাহী সম্পাদক।

আতিক হেলালের এ পর্যন্ত ১৬টি বই প্রকাশিত হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম বই ‘মশকরা’ (ছড়া) প্রকাশিত হয় ১৯৯৬ সালে বাংলা একাডেমী থেকে এবং বাংলাদেশ শিশু একাডেমি থেকে প্রকাশিত হয় ‘কোথায় ভূত’ নামে ছড়ার বই ২০০৬ সালে।
আতিক হেলাল বাংলা একাডেমির জীবন-সদস্য, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সদস্য এবং ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সদস্য এবং বাংলাদেশ বেতার-টিভির তালিকাভুক্ত গীতিকার।
তিনি ২০০৮ সালে সাতক্ষীরার নলতা মিতালী কচিকাচার মেলা সম্মাননা লাভ করেন। এছাড়া, সেন্টার ফর ন্যাশনাল কালচার সম্মাননা, বাংলাদেশ সাইকেল লেন বাস্তবায়ন পরিষদ সম্মাননা, ছড়াকার রকীবুল ইসলাম সম্মাননা ও লিটল ফ্লাওয়ার ইন্টারন্যাশনাল স্কুল স্বাধীনতা সম্মাননা লাভ করেছেন।

তিনি কুষ্টিয়ার সিরাজুল হক মুসলিম হাই স্কুল থেকে এস এস সি, কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ থেকে এইচ এস সি ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে স্নাতক. জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর (এমএসএস-রাষ্ট্রবিজ্ঞান) ও এল এল বি সম্পন্ন করেন।

আতিক হেলালের জন্ম ১৯৬৯ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর। পিতা মরহুম হাফিজুর রহমান সিকদার, মাতা রিজিয়া খাতুন। ৪ ভাই, ২ বোনের মধ্যে ২য়। ব্যক্তিগত জীবনে তার ২ যমজ কন্যাসন্তানের একজন সৌবর্ণ তাসনিম ঢাকা মেডিকেল কলেজে এমবিবিএস-এ এবং অপর কন্যা (সৌন্দর্য তাসনিম ) কুয়েট-এ পড়ছে। তার স্ত্রী দুলারী রহমান একটি বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত।

মতামত