,

বাংলাদেশের ইতিহাসে আগের মন্ত্রিসভার সবাইকে বাদ দেওয়ার এমন নজির নেই

মন্ত্রীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি

আমি প্রতি মুহূর্তে মনিটর করব

নতুন সরকার গঠন করার পর গতকাল সোমবার মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ দিক-নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী

নাগরিক ডেস্ক: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণের জন্য সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন মন্ত্রিসভার সদস্যদের। টানা তৃতীয়বারের মতো সরকার গঠন করার পর গতকাল সোমবার মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকে ওই নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী।

মন্ত্রিসভার ওই সদস্যরা জানান, মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নতুন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের কথা বলারও সুযোগ দেন এবং তাঁদের বক্তব্য মন দিয়ে শোনেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মন্ত্রী কালের কণ্ঠকে বলেন, “বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী আমাদের উদ্দেশ করে বলেন, ‘আপনাদের নতুনদের প্রতি যে আস্থা রেখেছি, যদি সে অনুযায়ী কাজ করতে না পারেন তবে আমার উদ্দেশ্য সফল হবে না। অনেকে নতুনদের নিয়ে নানা কথা বলবে, শুনতে হবে—অনভিজ্ঞদের নিয়ে আসার কারণে এটা হয়েছে। এ কারণে আপনারা সততা বজায় রেখে চলবেন। বিত্ত-বৈভব অনেক করতে পারবেন; কিন্তু সেটা করতে গেলে পচে যাবেন।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে গতকাল সকালে ওই বৈঠক হয়েছে। বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে ছিল ছয়টি বিষয়। বৈঠক শেষে সচিবালয়ে সে বিষয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন মন্ত্রিপরিষদসচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম। তবে মন্ত্রিসভার একাধিক সদস্য জানান, নির্ধারিত এজেন্ডার বাইরে দীর্ঘ বত্তৃদ্ধতা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মূলত এটি ছিল মন্ত্রিসভার সদস্যদের প্রতি তাঁর দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য। বৈঠক শেষে মন্ত্রিসভার সদস্যরা সেখানেই দুপুরের খাবার খান।

মন্ত্রিসভার এক সদস্য বলেন, বৈঠকের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের ইতিহাসে আগের মন্ত্রিসভার সবাইকে বাদ দেওয়ার এমন নজির নেই। সেটা আমি করেছি। আমি সেই চ্যালেঞ্জ নিয়েছি। আমি অনেক আস্থা নিয়ে আপনাদের মন্ত্রী করেছি। আপনাদের ওপর আস্থা রেখেছি। আপনারা সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে সেই আস্থা ধরে রাখবেন। জনগণের প্রত্যাশা রয়েছে আমাদের প্রতি, কাজেই সেই প্রত্যাশা পূরণ করা আমাদের একমাত্র লক্ষ্য। দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর যে আকাঙ্ক্ষা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছিল, আমাদেরও সেই আকাঙ্ক্ষা। সেই আকাঙ্ক্ষা পূরণ করব। একটি ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলব। ’

ওই মন্ত্রী আরো বলেন, মন্ত্রিসভার সদস্যদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনীতে আপনারা নিশ্চয়ই পড়েছেন, আমার দাদা তাঁকে যে কথাটা বলেছিলেন; যে কাজই কর না কেন, সিনসিয়ারিটি অব পারপাস অ্যান্ড অনেস্টি অব পারপাস। আমি মনে করি, এই দুটি কথা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই মন্ত্রিপরিষদ এ কথাটি মনে রেখে যে কাজই করবে, নিষ্ঠার সঙ্গে ও সততার সঙ্গে করবে। প্রতিটি কাজ নিষ্ঠার সঙ্গে করতে হবে—এ কথাটি মনে রাখতে হবে। জনগণের প্রতি আমাদের যে দায়িত্ব-কর্তব্য রয়েছে সেটা পালন করতেই আমরা এখানে এসেছি। ’ শেখ হাসিনা বলেন, ‘সততার শক্তি অপরিসীম, সেটা আমরা বারবার প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছি। ’

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের মৃত্যুতে বৈঠকের শুরুতে শোক প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম আজ আমাদের মাঝে নেই, এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমাদের সম্পর্কটা পারিবারিক ছিল। ’ ওই সময় প্রধানমন্ত্রী আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের মৃত্যুতে শোক প্রস্তাব গ্রহণ করা হয় বৈঠকে।

সূত্র মতে, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী অ্যাডভোকেট শ ম রেজাউল করিম গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়াকে ঘিরে বঙ্গবন্ধুর নামে মডেল সিটি করার প্রস্তাব দেন বৈঠকে। ওই প্রস্তাবের পক্ষে যুক্তি দেখিয়ে শ ম রেজাউল করিম বলেন, বিশ্বের ২০টির মতো দেশের স্বাধীনতার নায়ক ও জাতীয় নেতা, যাঁদের নেতৃত্বে ওই সব দেশ প্রতিষ্ঠিত হয়, সেই সব দেশে তাদের নেতার নামে সিটি আছে। ভিয়েতনামে হো চি মিনের নামে হো চি মিন সিটি, যুক্তরাষ্ট্রে জর্জ ওয়াশিংটনের নামে ওয়াশিংটন সিটিসহ অনেক দেশেই জাতির পিতার নামে সিটি আছে।

মতামত