,

ব্রেকিং

সাংবাদিকদের মাইর দেয়ার কথা বললেন ডা. খুরশীদ জামিল, নিন্দা অব্যাহত

চট্টগ্রাম বিএমএ’র বিতর্কিত সাবেক নেতা ডাক্তার খুরশীদ জামিল চৌধুরী ডাক্তারদের একটি গোপন বৈঠকে সাংবাদিকদের মারার পরামর্শ দিয়ে বলেছেন, মাইর দিতে হবে। যতক্ষণ পর্যন্ত মাইর না দিবা, ততক্ষণ পর্যন্ত কিচ্ছু হবে না।

সাংবাদিক রুবেল খানের আড়াই বছরের কন্যা শিশু রাইফা খানের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামের গণমাধ্যম কর্মীরা তুমুল আন্দোলন গড়ে তুলেছেন। তাদের সাথে গত এক সপ্তাহে সরকারী দলের নেতৃবৃন্দ, উচ্চপদস্থ আমলাসহ সর্বস্তরের মানুষজন একাত্মতা প্রকাশ করেছেন। বিপরীতে অভিযুক্ত ৩/৪ জন ডাক্তারের অপকর্ম ঢাকার জন্য স্বাধীনতা বিরোধী জামায়াত-বিএনপির চিকিৎসক নেতৃবৃন্দের সাথে হাত মিলিয়েছেন সরকারের অনুসারী প্রগতিশীল দাবীদার চিকিৎসকগণ। ৪ জুলাই তাদের গোপন একটি বৈঠকে বিএমএ’র বিতর্কিত সাবেক নেতা, বিএনপির ফটিকছড়ি আসন থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী ডা. খুরশীদ জামিল চৌধুরী সাংবাদিকদের মারার পরামর্শ দিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন। যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

তার দুই মিনিট আটচল্লিশ সেকেন্ডের বক্তব্যটি নাগরিক নিউজের পাঠকদের উদ্দেশ্যে তুলে ধরা হলো-
”প্রত্যেক সরকারী ডাক্তারের সাথে বেসরকারী ডাক্তারের সম্পর্ক আছে। কেউ স্বীকার করে কেউ করে না। সব জায়গায় স্ট্রাইক করতে হবে। এক সাথেই করতে হবে। আলোচনা চলবে, পাশাপাশি স্ট্রেন্থ (দৃঢ়তা) দেখাতে হবে। ওদের প্রেস কাউন্সিল আছে, আমাদের বিএমডিসি আছে। তারপরও আমাদেরকে আটক করে নিয়ে যায়।”

একা ডাক্তারদের পক্ষে আন্দোলন সামলানো যাবেনা এবং নার্স, সুইপারদের একত্রিত করার কথা জানিয়ে ম্যাক্স হসপিটালের এমডি ডাক্তার লিয়াকতকে উদ্দেশ্য করে ডা. জামিল বলেন, তোমার ডাক্তার, নার্সকে উপর থেকে লিফটে করে নিচে এনেছে। তখন তোমার স্টাফ, নার্স, কর্মচারী, সিকিউরিটি কোথায় ছিলো? আমাদের সাথে মিটিং করার আগে তুমি ঘরের মধ্যে মিটিং করো। প্রত্যেকে নিজের প্রতিষ্ঠানে মিটিং করেন। মেডিক্যাল কলেজে বড় আকারে মিটিং করেন। মেডিক্যাল কলেজের সঙ্গে বাহিরের সঙ্গে মিলিয়ে আবার মিটিং করুন। অন্যদের থেকে স্বাক্ষর গ্রহণ করুন। লিফটম্যান, দারোয়ান সবাই মাইর খায়। ডাক্তাররা খাওয়ার আগে তারা খায়। তাদেরও তিনি একত্রিত করার পরামর্শ জানান।

এরপর তিনি বলেন, তারাও (কর্মচারী, স্টাফ) মাইর থেকে বাঁচতে হবে, আমরাও মাইর থেকে বাঁচতে হবে। মাইর দিতে হবে। যতক্ষণ পর্যন্ত মাইর না দিবা, ততক্ষণ পর্যন্ত কিচ্ছু হবে না। সিরাজ ভাইয়ের সাথে (বিএমএ’র সাবেক নেতা ও প্রবীন চিকিৎসক, বামপন্থী বুদ্ধিজীবী) সাংবাদিকদের বন্ধুত্ব, আমাদের সাথেও যথেষ্ট বন্ধুত্ব আছে। ওরাতো একজোট হইছে। সামনে যে বিএফইউজে নির্বাচন, ওটার জন্য একটা কম্পিটিশনও আছে। ওদের মধ্যে ভাঙ্গন আছে। আমরা একটা দিকে এগিয়ে আছি। আমদের যে ইউনিটি সেটা ওদের মাঝে নেই। ওদের সাথে আজকেও আমার দেখা হয়েছে। ওখানে বিএনপি-জামাত ছিল। ওরা আমার কানে কানে বলে কোনটার বিরুদ্ধে কী করতে হবে।

এই বক্তব্য ভাইরাল হওয়ার পর সর্বস্তরের সাংবাদিক, পেশাজীবিদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

এ ব্যাপারে প্রবীন চিকিৎসক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. মাহফুজুর রহমান বলেন, খুরশীদ জামিলে মারামারির হুমকি একটা অসুস্থ্য প্রতিযোগিতা। বিএমএ’র নেতৃত্বে আসার জন্য হতে পারে। কে কত সাংবাদিক বিরোধী সেটা জাহিরের জন্য এমন বলতে পারে। মারামারি করেতো রাইফাকে ফিরিয়ে আনা যাবে না, কোন সমাধানও হবে না। বিষয়টি নিয়ে আমাদের এমন এক জায়গায় যেতে হবে যাতে সুষ্ঠু একটা সমাধান হয়।

বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের ডেপুটি গভর্নর আমিনুল হক বাবু দেশবার্তা২৪কে বলেন, আমরা চিকিৎসকদেরকে মানবিক মানুষ হিসেবেই জানি। মানুষের করুণ মুহুর্তে চিকিৎসক সমাজই পাশে থাকেন। তাদের থেকে যদি এমন হুমকি আসে সেটা নিন্দনীয়। আমি আশা করবো রাইফার মৃত্যুর বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীরা বিচারের আওতায় আসবে। একই সাথে জাতির বিবেক সাংবাদিক সমাজ ও চিকিৎসক সমাজ যার যার অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখবেন।

প্রকৌশলী ওয়াহিদুল আলম দেশবার্তাকে বলেন, এটা চিকিৎসার নামে গলাকাটা ব্যবসাকে জায়েজ করার কৌশল। সব দূর্নীতিবাজ, টেন্ডাবাজ এক হয়েছে। এদের বিরুদ্ধে আমরা সাংবাদিকদের সাথে আছি।

স্কুল শিক্ষক মোজাম্মেল হোসেন বলেন, এটাতো সন্ত্রাসী কথা বার্তা। একজন চিকিৎসক, তাও আবার এমপি হওয়ার জন্য দৌঁড়াচ্ছেন তিনি যদি এভাবে কথা বলেন এমপি হলেতো মানুষকে শীল-পাটায় পিষবেন।

খুরশীদ জামিলের এই হুমকিতে চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন (সিইউজে) এক বিবৃতিতে দিয়েছেন। সিইউজে সভাপতি নাজিমুদ্দিন শ্যামল ও সাধারণ সম্পাদক হাসান ফেরদৌস স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএমএকে ব্যবহার করে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরীর প্রচেষ্টা চলছে। সবাইকে সতর্ক থাকার আহবান জানিয়ে তাঁরা বলেন, আমাদের আন্দোলন বিএমএ’র বিরুদ্ধে নয়। দোষীদের বিরুদ্ধে। এখানে বিএমএকে ব্যবহার করা হচ্ছে। এব্যাপারে সরকারের গোয়েন্দা সংস্থাসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

মতামত