,

ব্রেকিং

দুই বছর কমার পর প্রবাসী আয় বাড়ল

টানা দুই বছর কমার পর প্রবাসী আয় বা রেমিটেন্স আবার বেড়েছে। সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে আগের বছরের তুলনায় ১৭ শতাংশ বা ২.২১ বিলিয়ন ডলার বেড়েছে।

২০১৭-১৮ অর্থবছরে দেশের রেমিট্যান্সের প্রবাহ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪.৯৮ বিলিয়ন ডলার। আগের বছর আগে যা ছিল ১২.৭৭ বিলিয়ান ডলার।

২০১১ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত এক বছর বাদে প্রতি বছর বেড়েছে প্রবাসী আয়। আর এটি দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা শক্তিশালী করতে ভূমিকা রেখেছে। তবে ২০১৫-১৬ এবং ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ঘটে ছন্দপতন।

২০১৪-১৫ অর্থবছরে যেখানে প্রবাসী আয় ছিল ১৫.৩১ বিলিয়ন ডলার, সেখানে পরের বছর তা কমে দাঁড়ায় ১৪.২৯ বিলিয়ন ডলার। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে তা আরও কমে ১২. ৭৬ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসার পর তৈরি হয় উদ্বেগ।

এই সময়ে বিশেষ করে জ্বালানি তেলের দাম কমে যাওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনীতি ছিল চাপে। আর প্রবাসী শ্রমিকদের সুযোগ সুবিধা কমিয়েছে দেশগুলো। এর পাশাপাশি অবৈধ পথে রেমিটেন্স পাঠানোও এর কারণ ছিল।

তবে গত এক বছর ধরে তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী থাকার পাশাপাশি সৌদি আরবে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংস্কারের পাশাপাশি বিপুল শ্রমিকের বিদেশে যাওয়ার সুফলও পেয়েছে বাংলাদেশ।

২০১৭ সালে বাংলাদেশ থেকে বিদেশে চাকরি করতে গেছে ১০ লাখেরও বেশি শ্রমিক। আবার শ্রমিক পাঠানোর ক্ষেত্রে এখন অদক্ষের বদলে আধা দক্ষ বা দক্ষ শ্রমিক পাঠাতে চাইছে বাংলাদেশ। এ জন্য দেয়া হচ্ছে প্রশিক্ষণ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা রেমিটেন্স প্রবাহ বাড়ার পেছনে অবদান রেখেছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলি থেকে। সেই সঙ্গে ডলারের বিপরীতে স্থানীয় মুদ্রার মান কিছুটা কমাও সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রেমিটেন্স প্রবাহ বৃদ্ধিতে সহায়তা করেছে।

বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স (এএবি) এর চেয়ারম্যান সায়েদ মাহবুবুর রহমান বলেন, এসব কারণ ছাড়াও হুন্ডি ব্যবসা এবং অর্থ আনা নেয়ার জন্য ব্যবহৃত অবৈধ ক্রস বর্ডার চ্যানেলে বাংলাদেশ ব্যাংকের কড়া নজরদারিও রেমিটেন্স বাড়ায় অবদান রেখেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা জানান, বর্তমানে বিশ্বব্যাপী ২৯টি এক্সচেঞ্জ হাউস পরিচালিত হচ্ছে। এবং রেমিটেন্স প্রবাহ বৃদ্ধির জন্য বিশ্বব্যাপী এক হাজার ২০৫টি শাখা স্থাপন করা হয়েছে।

মতামত