,

ব্রেকিং

পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে স্বীকৃতি পেতে যাচ্ছে বাঁশখালী সমুদ্র সৈকত

বাঁশখালীর বাহারছড়া উপকুলীয় সমুদ্র সৈকতকে পর্যটন স্পট ঘোষনার জন্য দীর্ঘদিন থেকে নানাভাবে প্রচারণা চালিয়ে আসছে স্থানীয় জনগণ থেকে শুরু করে বিভিন্ন সংগঠন। তার উপর স্থানীয় সাংসদ এ বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পর্যটন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ে বিশেষ ডিও প্রেরণ ও সরসরি কথা বলায় গত মঙ্গলবার এ বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে এমপি,ইউএনও ও পর্যটন কর্পোরেশনের যৌথ প্রতিনিধি দল এলাকাটি পর্যবেক্ষণ করেন এবং বাঁশখালীর উপকূলীয় এলাকায় পর্যটন র্স্পট করার সব ধরনের সুযোগ সুবিধা বিদ্যামান আছে বলে সাংবাদিকদের জানান।

বাঁশখালীর বাহারছড়া উপকুলীয় সমুদ্র সৈকতকে পর্যটন র্স্পট ঘোষণার জন্য এমপি, ইউএনও ও পর্যটন কর্পোরেশনের দলের যৌথ পর্যবেক্ষণ দলের আগমনকে ঘিরে সাগর উপকূল এলাকা লোকে লোকারন্য ছিল। একদিকে ব্যানার ফেস্টুন অপরদিকে শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে নানা শ্রেণির লোকজনের শ্লোগানে মূখর ছিল সাগর এলাকা। এ সময় উপস্থিত জনতার উদ্যোশে বাঁশখালীর সাংসদ আলহাজ্ব মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী বলেন, বাঁশখালীবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ছিল উপকূলীয় বেড়িবাঁধ। সে বাঁধের সমস্যার সমাধান হয়েছে। এখন উপকূলীয় এলাকা পর্যটন স্পট করার জন্য দাবি উঠেছে তা বাস্তবায়নে সকল ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং সকলের সহযোগিতায় তা বাস্তবায়ন করব ।বাশঁখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোমেনা আক্তার বলেন, বাঁশখালীর বাহারছড়া উপকূলীয় সমুদ্র সৈকতকে পর্যটন স্পট ঘোষনাা করা হলে এবং তা বাস্তবায়ন হলে দক্ষিন চট্টগ্রামের সর্বস্তরের পর্যটক গন উপকৃত হবেন।

কারন এ এলাকায় কোন অবস্থায় কক্‌্রবাজার থেকে কম নয়। তিনি পর্যটন স্পট বাস্তবায়নে সকল ধরনের কার্যক্রম চালিয়ে যাবেন বলে জানান। বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের ম্যানেজার মো. মোতাহের হোছাইন বলেন পর্যটন সমৃদ্ধ করতে আমি দেশের বিভিন্ন স্থানে কাজ করেছি। বাঁশখালীয় উপকূলীয় সমুদ্র সৈকত সত্যিই পর্যটন স্পট করার মতো উপযোগি জায়গা। এ সময় উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আবদুল গফুর, বাহারছড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগের সভাপতি তাজুল ইসলাম, কালীপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এডভোকেট শাহাদাত আলম, খানখানাবাদ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো.বদরুদ্দিন চৌধুরী, জিল্লুর করিম শরীফি, উপজেলা পুজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি প্রদীপ গুহসহ বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য বাঁশখালীর উপকূলীয় সমুদ্র সৈকত দিন দিন সাধারণ পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে। তাই প্রতিদিন সকালে অথবা বিকেলে অসংখ্য লোকের আনাগোনায় মুখরিত থাকে উপকূলীয় এলাকা। সম্প্রতি শেষ হওয়া কোরবানির ঈদে এত বেশি পর্যটকের আনাগোনা ছিল যা চোখে পড়পর মত। বাঁশখালীর খানখানাবাদ, বাহারছড়া,গন্ডামারা ও ছনুয়া বঙ্গোপসাগর অংশে সারি সারি ঝাউবাগান যেকারো নজর কাড়ে। সবচেয়ে বেশি লোকের আনাগোনা হয় বাহারছড়ার রত্নপুর ও কদমরসুল অংশে। বর্তমানে বাঁশখালীর উপকূলীয় এলাকায় বেড়িবাঁধ সংস্কারের কার্যক্রম শেষ পর্যায়ে। এই বেড়িবাঁধ সংস্কারের পাশাপাশি উপকূলীয় এলাকাকে পর্যটন স্পটে রূপান্তরিত করলে সরকার রাজস্ব সহ বহুমুখী লাভবান হবে এমনকি কঙবাজারে যে পর্যটকদের চাপ তা থেকে চট্টগ্রামের পর্যটকরা বাঁশখালী অংশে এসে কক্সবাজারের স্বাদ নিতে পারবে। বাঁশখালীর উপকূলীয় সুদীর্ঘ ৩৭ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে সমুদ্র সৈকত বিস্তৃত। সারি সারি ঝাউবাগান ও বিস্তৃর্ণ সমুদ্র সৈকতের প্রাকৃতিক হাওয়া উপভোগ করতে এখানে প্রতিনিয়ত পর্যকটদের আনাগোনা দেখা যায়। বর্তমানে আনন্দ ভ্রমণ কিংবা পিকনিক স্পটের বিকল্প হিসেবেও পর্যটকরা বেছে নিয়েছে এ অঘোষিত পর্যটন স্পটকে। বাঁশখালীর পূর্ব দিকে বিস্তৃর্ণ এলাকা জুড়ে রয়েছে পাহাড় এবং পশ্চিম দিকে রয়েছে বঙ্গোপসাগর তীরবর্তী উপকূলীয় সুদূর প্রসারী সমুদ্র চর। এখানে রয়েছে বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য পর্যটন স্পট। বর্তমানে ভ্রমণ পিপাসু পর্যটকরা প্রতিনিয়ত কক্সবাজারের ন্যায় এখানে এসে ভিড় জমান।

সূত্র: আজাদী

মতামত