,

গল্পটা একজন কসাইয়ের! লেখক: আব্বাস বিন ইদ্রিস

গল্পটা একজন কসাইয়ের!

১১-ই মে ২০১৮। আমার আম্মার ব্রেস্ট টিউমার এবং পিত্তথলির পাথরের দুইটি মেজর অপারেশন করানো হয়। এক সাপ্তাহ পর ডাক্তারের পরামর্শ মতো আম্মাকে বাসায় নিয়ে আছি।

কিন্তু ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে না থাকায় সেলাই শুকাচ্ছিল না। তাই আবার যোগাযোগ করি ডাক্তারের সাথে। উনি পরামর্শ দিলেন নিয়মিত ড্রেসিং করাতে। বাসা থেকে হসপিটালে এনে প্রতিদিন আম্মাকে ড্রেসিং করানোটা ছিলো খুবই কষ্টের ব্যাপার।

বিষয়টা আমি আমার এক পরিচিত জুনিয়র ডাক্তার ভাইয়ার সাথে শেয়ার করি। উনি সাথে সাথেই বললেন; “ভাই সমস্যা নেই আমি নিয়মিত বাসায় গিয়ে আন্টিকে ড্রেসিং করায় দিবো।”

পরেরদিন থেকে নিয়মিত এসে ডাক্তার ভাইয়া ড্রেসিং করাচ্ছিলো। কিন্তু তারপরেও আম্মার শারীরিক কোনো পরিবর্তন আসল না। এরমধ্যে চলে আসলো পবিত্র ঈদুল ফিতর। যে যার মতো মানুষ নাড়ির টানে বাড়ি ফিরলো।

ঈদের দিন সকালে শুভেচ্ছা জানানোর জন্য ডাক্তার ভাইয়াকে ফোন দিই। শুভেচ্ছা বিনিময়ের পর উনি জানতে চাইলেন, আমি বাসায় আছি কিনা। আমি বললাম জ্বি ভাই আছি।

ঈদের দিন বিকালে প্রতিদিনের মতো উনি ঠিক টাইমে উপস্থিত হয়ে আম্মাকে ড্রেসিং করাই দিলেন। আমি অবাক হয়ে জানতে চাইলাম, ভাই আপনি বাড়ি জাননি?

সহজ সরল মানুষটা জানালেন; “আমি গ্রামে গেলে আন্টিকে ড্রেসিং করাবে কে? বাড়িতে গেলে আমার আম্মুর সাথে বসে সময় কাটাতাম। এক মায়ের সাথে সময় কাটানোর জন্য আমি আরেক মাকে এভাবে বিপদে ফেলে যায় কি করে?”

উত্তর শুনে আমার মন কাঁদ ছিলো। সৃষ্টি কর্তার কাছে মন উজাড় করে মানুষটার জন্য প্রার্থনা করেছিলাম। আমার আম্মা এখনও প্রতি নামাজে উনার জন্য দোয়া করে।

আম্মা সুস্থ হওয়ার আগ পর্যন্ত ঈদের দিন সহ টানা এক মাস ৩ দিন আম্মাকে ড্রেসিং করিয়েছেন। বিশ্বাস করেন বিনিময়ে একটা পয়সাও নেননি। অথচ উনার সাথে আমাদের রক্তের কোনো সম্পর্ক নেই। আমাদের বাড়ি চট্টগ্রাম। উনার বাড়ি নরসিংদী।

হ্যাঁ উনিই কসাই। আমার আজকের গল্পের কসাই। এমন কসাই বাংলা মায়ের প্রতিটি ঘরে জন্মাক। বিনম্র শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা পৃথিবীর সকল ডাক্তারদের প্রতি।

Happy Doctors Day! ❤

মতামত