,

‘ছাত্ররাজনীতি, ক্যারিয়ার ও পড়ালেখা’

লেখক

ভাইয়েরা রাজনীতির পাশাপাশি পড়ালেখাও একটু করা লাগে। আজকে নিউজফিড দেখ, সবাই আলহামদুলিল্লাহ বলে স্ট্যাটাস দিচ্ছে! আগে তোমার অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, পরিবারের নিরাপত্তা, তোমার সামাজিক নিরাপত্তা! যে নেতা পড়ালেখা বাদ দিয়ে তার পেছনে তোমাকে ঘুরতে বলে তার কাছ থেকে এক ক্যারিয়ারে যত উপার্জন করতে পারবে তা অগ্রীম নিয়ে তারপর সময় দাও আপত্তি নেই। তোমাকে পেছনে পেছনে ঘুরিয়ে চাকরি/কিছু একটা করার বয়স যখন শেষ তখন বলবে ‘অনেক চেষ্টা করেছি ভাই, তুমি তো জান আমি দুর্নীতি করিনা’ পকেটে কিছু নোট গুজিয়ে দিবে, আস্তে আস্তে এড়িয়ে চলবে। আর ক্ষমতার বাইরে থাকলে তো সাক্ষাৎ পাওয়াটাই অমাবস্যার চাঁদ হয়ে যাবে। রাজনীতির বন্ধুরা আমার কথায় রাগ করার কারণ নেই। উপরে যা বললাম তা কঠিন বাস্তবতা। বয়স হারিয়ে, হতাশায় একজন শীর্ষস্থানীয় ছাত্রনেতার মনের যে অবস্থা তা আমার স্ট্যাটাসে ব্যক্ত করলাম।

রাজনীতি নিঃসন্দেহে চমৎকার ক্যারিয়ার, যদি সেখানে মেধাবীদের আদর, কদর করা হয়। কিন্তু এখনো ঐতিহ্যগতভাবে পরিবার, গোত্র, ব্যক্তিকেন্দ্রিক রাজনীতি প্রবাহমান যেখানে রুট লেভেল থেকে উঠে এসে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ খুব একটা নেই। ২১ শতকের ছেলেদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে অন্যের ক্ষমতায় আরোহণ, শক্তি বৃদ্ধির হাতিয়ার হবে নাকি নিজের শক্তিতে নিজেই উপরে উঠার চেষ্টা করবে। একটা তথ্য দিই আমার বাঁশখালীর বেশ কয়েকজন সন্তানকে খুব কাছ থেকে জানি, অনেকের সাথে ভাল সম্পর্ক আছে, যারা বিশ্বের জায়ান্ট কোম্পানিতে ঈর্ষনীয় পদে চাকরি করছে তারাও লেজুড়বৃত্তি করে ৫০০ টাকার নোট নিয়ে সন্তুষ্ট থেকে নিজের নয় ভাইয়ের গর্বে গর্বে গর্বিত হওয়ার স্ট্যাটাস দিতে পারত কিন্তু নিজেদের যোগ্যতা, দক্ষতায়, এখন তাদের হয়ে স্ট্যাটাস দেয় তাদের বস।

বিলগেটসের একটি উক্তি আমার খুব পছন্দ ‘তুমি গরিব ঘরে জন্মেছ এটা তোমার পাপ নয়, তুমি গরিব থেকেই পৃথিবী ত্যাগ করছ এটাই পাপ, এটাই অভিশাপ’। একটা জিনিস অভিজ্ঞতা আর কষ্ট দিয়ে বুঝছি মায়ের গর্ভ থেকে মেধাবী হয়ে আসতে হয়না, শ্রম আর একাগ্রতা দিয়ে সব অবস্ট্যাকল জয় করা যায়। সৃষ্টিকর্তা প্রত্যেক মানব সন্তানকে একটা এক্সট্রা অর্ডিনারি ক্ষমতা দিয়ে পৃথিবীতে পাঠান। কেউ সেটা ধরেই এগিয়ে যায়, আর কেউ তার ব্যবহার না করে, ভুল জায়গায়, ভুল কাজে নিজের মূল্যবান সময় অতিবাহিত করে। যেকোন কাজ, সেটা হোক কৃষি, সেটা হোক বিপনন, সেটা হোক হাতের কোন কাজ, তাতে ১০০% দিবেন তো সোনা ফলাবেন। এবার চুপে চুপে বসে ভাবুন, নিজের শক্তিশালী দিক কোনটি এবং লেগে যান। সফলতা দেয়ার মালিক উপরওয়ালা। যাদের কথা উপরে বলছি তারা আগামী কয়েক দশকে বিশ্বকে নেতৃত্ব দিবে হ্যা তারা আমার বাঁশখালীর, আমার বাংলাদেশের সন্তান।
তাই বন্ধুরা, ভাইয়েরা “সবকিছু বাদ, পড়ালেখাটা ঠিকঠাক থাক”।

লিখেছেন: রহিম সৈকত
শিক্ষক, ফ্রিল্যান্সার সাংবাদিক ও সমাজকর্মী

মতামত