,

‘সরকার নয়, আপনাকে বাঁচাবেন আপনিই’

সাংবাদিক আলম দিদার

সরকার নয়, আপনাকে বাঁচাবেন আপনিই!

সরকার পুলিশ প্রশাসনতো দূর আল্লাহর ফেরেশতা নেমে আসলেও এই দেশের মানুষকে বুঝানো সম্ভব না। সরকারের এতো উদ্যোগ নির্দেশনা আমাদের মঙ্গলের জন্যই নেওয়া হয়েছে। তবুও কী করে মানুষ স্বাভাবিক জীবন যাপন করছে? একেবারে নির্ভার! ভাবলেশহীন! ডেম কেয়ার ভাব!

একটি সূত্রে জানলাম, নগরীরই একটি এলাকায় জ্বর কাশি নিয়ে বিদেশ ফেরত এক যুবক এসে স্বাভাবিক জীবন যাপন করছেন। নিয়ম না মানায় তার কারণে করোনা যে কমিউনিটি ট্রান্সমিশন হবে না তার কোনও নিশ্চয়তা নেই। কেননা, দক্ষিণ কোরিয়া আর ইতালীতে এরকম একজনই পুরা দেশব্যাপী এই মহামারী ছড়িয়ে দিয়েছিল।

কিন্তু পুলিশ নগরীর ওই যুবককে খুঁজতে আসলেও পরিবারই তা অস্বীকার করছে। তারা নিজেরাই যেমন বিপদকে আলিঙ্গন করলো তেমনি পুরা এলাকাকেই বিপদে ফেললো। এটা একটা উদাহরণ মাত্র! এরকম সারা দেশে অহরহ ঘটনা আছে। অন্যদিকে পুলিশ পাঁচলাইশের এক বিদেশ ফেরত যুবকের সন্ধানে ছবি দিয়ে গণমাধ্যমের সহযোগিতা চাইলো।

এক্ষেত্রে সরকারের অপরিপক্ক সিদ্ধান্তও কম দায়ী না। বেলা শেষে সিল গালা করা হলো বিমানবন্দর। লাখ লাখ প্রবাসীকে দেশে বানের পানির মতো ঢুকতে দিয়ে জনগণের মাঝে ছেড়ে দিয়ে এখন হোম কোয়ারান্টাইনের নামে গুটিকয়েক মানুষকে ধরে বেঁধে রাখার চেষ্টা করছে। সেখানেও ওই আবালের দলের কাছে হেনেস্তা হতে হচ্ছে ম্যাজিস্ট্রেটসহ প্রশাসনকে। এই পরিস্থিততে আনুষ্ঠানিকভাবে দেশে করোনা আক্রান্ত ২৪ জন থেকে এই সংখ্যা কতজনে গিয়ে দাঁড়াবে তা কল্পনাতীত।

এছাড়া সরকারের কোনও উদ্যোগ প্রচারকেই আমলে নিচ্ছেনা সাধারণ মানুষ। যতক্ষণ পর্যন্ত নিজে মারা যাবেনা ততক্ষণ মানবে কিনা তাতে সন্দেহ আছে! তবে নিয়ম মানুক না মানুক মুনাফালোভীরা কিন্তু বাজার মজুদ করছে ঠিকই। তেমনি বাজার অস্থিতিশীল করতে তৎপর আরেকটি গোষ্ঠি৷ কোন একটি গোষ্ঠি আবার করোনা নিয়ে গুজব রটিয়ে অস্থিতিশীল করতেও তৎপর।

সনকার একদিকে কল কারখানা শপিং মল যেমন খোলা রেখেছে আবার অন্যদিকে সভা সমাবেশ গণ জমায়েতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে! এ কেমন সাংঘর্ষিক সিদ্ধান্ত? এরকম হলে ঘন বসতিপূর্ণ এদেশে কি করোনার বিস্তার বা সংক্রমন ঠেকানো সম্ভব? পুরাপুরিই সবকিছু লকডাউন বা শাটডাউন করতে হবে।

এছাড়া সরকারের মন্ত্রীরা নানা বুলি উড়ালেও আমাদের আদৌ মেডিকেলি প্রস্তুতি কতটুকু? সক্ষমতা কতটুকু তার করুণ দশা তা মিরপুরের দ্বিতীয় করোনা আক্রান্ত ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনায় প্রশ্ন এঁকে দিল। এছাড়াও আজকে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেলের এক অফিস আদেশ দেখেই স্পষ্ট হলো করুন দশার চিত্র। তাদের কাছে চিকিৎসকদেরও মাস্ক পর্যন্ত নেই।

সরকার হাজার কোটি টাকার পরমানু বিদ্যুত কেন্দ্র, পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল নির্মাণ করার সক্ষমতা রাখলেও এ পর্যন্ত জনগণের জন্য ফ্রিতে সাবান ও মাস্ক যেমন বিতরণ করতে পারেনি। তেমনি তা সহজলভ্যও করতে পারেনি। শুরু থেকেই সেনাবাহিনীকে এই দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব দেওয়ার দাবি উঠলেও তাও আমলে নেওয়া হচ্ছে না।

এছাড়া ঢাকার বাইরে সরকার কোথাও করোনা পরীক্ষার ব্যবস্থা করতে পারেনি, এত দিন সময় পেয়েও! আমি নিজেও গত কদিন ধরে কাশি গলা ব্যাথা নিয়ে ঘরে বসে থাকলেও চিকিৎসকের পরামর্শে ঘরে বসেই ওষুধ খাচ্ছি। বাট তা করোনা কিনা তা টেস্ট করার কোনও সুযোগ পাইনি। আমার মতো এরকম অহরহ মানুষ সর্দি কাশি জ্বর নিয়ে আল্লাহ আল্লাহ করে দিনপার করছে৷ এছাড়া আর কোনও উপায় নেই তা ছাড়া ।

এমনকি যে চিকিৎসকরা চিকিৎসা দেবেন তাদের প্রোটেকশনের বিষয়টিও নিশ্চিত করতে পারেনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। সেকারণে চট্টগ্রামের অনেক চিকিৎসক এখন চেম্বারে সর্দি কাশি জ্বরের রোগীই দেখছেন না। তাদের দাবিটাও যুক্তিযত। জীবন আগে। সেটাই স্বাভাবিক। হোক না তারা চিকিৎসক। সব মিলিয়ে এক অনিশ্চিত পরিবেশের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি আমরা।

অন্যদিকে সবাইকে ঘরে থাকতে বলা হলেও বিশেষ করে চাকরীজীবী নিম্ন আয়ের মানুষের এ কদিনের খাবার। এনজিও-ব্যাংকের কিস্তির বিষয়েও সরকারকে দায়িত্ব নিতে হবে। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষদের খাবারের ব্যবস্থা সরকারকেই করতে হবে৷ পাশাপাশি দেশের শিল্প গ্রুপগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে। যেসব বিত্তশালীরা রমজানে যাকাত দেওয়ার জন্য বসে আছেন তারা চাইলে এখনই মানবতার সাহায্যে এগিয়ে আসতে পারেন।

সব শেষে বলতে চাই, এখানে সরকারের চেয়েও আমারা যারা জনগণ তাদেরই দায়িত্ব বেশি। আমরা যতক্ষণ না সচেতন না হবো, সচেতন না করবো, সরকারের আদেশ মানবো না ততই ঝুঁকির মধ্যে থাকবো! আসুন সচেতন হয়। নিয়ম মানি। জীবন বাঁচাই! নিজে বাঁচি।

#alam_didar #21march

#safelife #stayhome #covid19

লিখেছেন- আলম দিদার, গণমাধ্যম কর্মী

মতামত