,

নামাজ পড়া, দাড়ি রাখা কর্মকর্তাদের নিয়ে যা বললেন প্রধানমন্ত্রী

দাড়ি রাখেন, নামাজ পড়েন, প্রশাসনের এমন কর্মকর্তাদের বিএনপি-জামায়াত অনুসারী হিসেবে চিহ্নিত না করতে সতর্ক করে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, ‘একশ্রেণির কর্মকর্তা নিজেদের স্বার্থে এসব প্রচারণা চালান, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। নামাজ পড়া আর দাড়ি রাখা লোক আমি পছন্দ করি।’

মন্ত্রিপরিষদ সচিব শফিউল আলমকে বিদায় জানাতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, বর্তমান মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নিয়োগের সময় একদল কর্মকর্তা (নিয়োগের) বিরোধিতা করেছিলেন। তারা তাকে (মোহাম্মদ শফিউল আলম) জামায়াত অনুসারি কর্মকর্তা হিসেবে চিহ্নিত করে তার (প্রধানমন্ত্রী) কাছে অভিযোগ করেছিলেন।

শফিউল আলমকে জামায়াত প্রমাণ করতে বলা হলে ওই কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন, তিনি (মোহাম্মদ শফিউল আলম) নিয়মিত নামাজ পড়েন, তার দাড়ি আছে।

পরে প্রধানমন্ত্রী খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, মোহাম্মদ শফিউল আলমের পরিবার মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণকারী একটি পরিবার। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় তার আপন বড় ভাই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের নেতা ছিলেন এবং মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একজন শহীদের ভাইকে আমার সামনে জামায়াত হিসেবে উপস্থাপন করা হলো।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কোনো কর্মকর্তার নিয়োগ বা পদোন্নতি ঠেকাতে প্রথমেই বলে ওই কর্মকর্তা বিএনপি। আরও পরে বলে সে তো জামায়াত। একজন কর্মকর্তার রাজনৈতিক বিশ্বাস যে কোনো দলের প্রতি থাকতেই পারে, তা দোষের নয়। সবাই একই আদর্শে বিশ্বাসী হবেন, এটা তো কাম্য হতে পারে না।’

প্রশাসনের সব কর্মকর্তাকে সতর্ক করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অমুক কর্মকর্তা বিএনপি, অমুক জামায়াত বলে আবার কাউকে আখ্যায়িত করবেন না।’

মতামত