,

শহীদ ফরহাদের স্মৃতিধন্য বৈলছড়ীতে নেই শহীদ মিনার

তাফহীমুল ইসলাম (নাগরিক নিউজ)- চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার অন্যতম ইউনিয়ন বৈলছড়ী। বিভিন্ন দিক বিবেচনায় এই ইউনিয়ন বেশ সমৃদ্ধ। উপজেলার শিক্ষাজোন হিসেবে রয়েছে আলাদা পরিচিতি। এখানে গার্লস কলেজ, পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, ডিগ্রী মাদরাসা, কওমী মাদরাসা, হাইস্কুলসহ রয়েছে অর্ধডজনেরও বেশি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এই ইউনিয়নে জন্মেছেন অবিভক্ত বাংলার আইনসভার সদস্য খাঁন বাহাদুর বদি আহমদ চৌধুরী, সাবেক সিটি মেয়র মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী, ব্যাংকিং জগতের পথিকৃৎ মুহাম্মদ আলীর মতো ব্যক্তিত্ব। উপমহাদেশের প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ ডক্টর আবদুল করিমের মতো ব্যক্তি এই জনপদ থেকে শিক্ষালাভ করেছেন। দক্ষিণ চট্টগ্রামের প্রথম ইউনিয়ন বোর্ডও এখানে অবস্থিত। দুঃখজনক বিষয় হচ্ছে- ভাষা আন্দোলনের ৬৭ বছর পেরিয়ে গেলেও পুরো ইউনিয়ন জুড়ে স্থাপিত হয়নি একটি শহীদ মিনার! গার্লস কলেজ, ডিগ্রী মাদরাসার মতো প্রতিষ্ঠানগুলোতে যদিওবা শিক্ষার স্তর বিবেচনায় শহীদ মিনার থাকাটা জরুরী। কিন্তু ইউনিয়ন জুড়ে একটি শহীদ মিনার না থাকা স্বাধীনতা অর্জন পরবর্তী এই সময়ে লজ্জাজনক। মাতৃভাষার জন্য বাঙালি জাতির ত্যাগের স্মীকৃতি বিশ্ববাসী দিলেও ইউনিয়ন জুড়ে শহীদ মিনার না থাকার ব্যাপারটা বাংলা ভাষার প্রতি অবজ্ঞা করার শামিল। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস এলে দেখা যায়- কোন প্রতিষ্ঠানে ইট, কোন প্রতিষ্ঠানে কাঠ, কাগজ দিয়ে অস্থায়ী শহীদ মিনার নির্মাণ করে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হচ্ছে! এতোটুকুই কি শহীদদের প্রাপ্তি?

বৈলছড়ীতে শহীদ মিনার নির্মাণ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সাবেক তুঁখোড় ছাত্রনেতা ঝুন্টু কুমার দাশ বলেন- “১৯৯৬/৯৭ সালের দিকে বৈলছড়ীতে শহীদ মিনার নির্মানের জন্য আমরা তৎকালীন শ্রমমন্ত্রী এম এ মান্নান বরাবরে স্মারকলিপি দিয়েছিলাম। এরপরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাব্বির ইকবালসহ অনেকের দ্বারস্থ হয়েছি। মিছিল, মিটিং, মানববন্ধন পর্যন্ত করেছি। কিন্তু কোন কাজ হয়নি। দীর্ঘদিন স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তি ক্ষমতায় থাকা সত্ত্বেও মুক্তিযুদ্ধের শহীদের জন্মদানকারী বৈলছড়ী ইউনিয়নে কেন একটি শহীদ মিনার স্থাপিত হচ্ছে না! এর পিছনে নিশ্চয় কোন হেঁতু আছে। আমরা কাঠ, ইটের তৈরি অস্থায়ী শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শহীদের মর্যাদাকে আর ক্ষুন্ন করতে চাই না। দায়িত্বশীল মহলের প্রতি অনতিবিলম্বে বৈলছড়ী ইউনিয়নে একটি শহীদ মিনার স্থাপনের জোর দাবি জানাচ্ছি।”

বৈলছড়ী ইউনিয়নে জন্মেছেন মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদ ফরহাদ উদ দৌলা। তিনি খাঁন বাহাদুর বদি আহমদ চৌধুরীর ভাই রফিক আহমদের পুত্র ছিলেন। যুদ্ধকালীন তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন। সেখান থেকে তিনি যুদ্ধে অংশ নিতে কক্সবাজার গেলে শত্রুর বুলেটের আঘাতে শহীদ হন। শত্রুরা তাঁকে মেরে লাশ সাগরে ভাসিয়ে দিয়েছিল। যার কারণে তাঁর লাশ দাফন পর্যন্ত করা যায়নি। শহীদ ফরহাদের নামে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি সড়ক থাকলেও তাঁর ইউনিয়নে নেই একটি শহীদ মিনার!

একটি শহীদ মিনার স্থাপন করাটা খুব বেশি ব্যয়বহুল কাজ নয়। এটা চাইলে ব্যক্তি উদ্যোগেও করা সম্ভব। তাছাড়া ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এটার দায় এড়াতে পারে না। বাঁশখালীর বর্তমান সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে বৈলছড়ীতে তাঁকে গনসংবর্ধনা দেয়া হয়। সেখানে তিনি বলেছেন- “বৈলছড়ী হাইস্কুলে শহীদ ফরহাদের নামে একটি ভবন হবে এবং একটি শহীদ মিনার স্থাপন করা হবে।” প্রতিশ্রুতির পাঁচ বছর পেরিয়ে গেলেও এমপির সেই ঘোষনা বাস্তবায়িত হয়নি। সাধারণ মানুষের ধারণা- নতুন মেয়াদে সংসদ সদস্য হওয়ায় এবার তিনি জনদাবিটি আমলে নিবেন।

মতামত