,

হাইওয়ে থানার অতন্দ্র প্রহরী ওসি মিজান

বিশেষ প্রতিবেদক, নাগরিক নিউজ: দক্ষিণ চট্টগ্রামের চন্দনাইশ, সাতকানিয়া, লোহাগাড়া মহাসড়ক নিয়ে গঠিত পুলিশ প্রশাসনের দোহাজারী হাইওয়ে থানা।

৫৫ কিলোমিটার সুবিস্তীর্ণ এই হাইওয়ে থানার সড়ক পরিবহণে শৃঙ্খলা, মাদক পাচার ও দূর্ঘটনা রোধে অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন ওসি মিজানুর রহমান।

মহাসড়কে শৃঙ্খলা ও সড়ক নিরাপত্তায় সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি ওসি মিজানের ব্যক্তিগত উদ্যোগ সমূহ বিভিন্ন সময় প্রশংসিত হয়েছে।
নিরাপদ সড়ক ও মাদক পাচার রোধে সাহসী ভূমিকা রাখায় চট্টগ্রাম রেঞ্জ কর্তৃক একাধিকবার সম্মাননা ক্রেস্টে ভূষিত হয়েছেন নির্ভীক এই পুলিশ অফিসার।

এ প্রসঙ্গে তিনি নাগরিক নিউজকে বলেন, ‘দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে দোহাজারী থেকে শুরু করে মহাসড়কের আশে পাশের ঝোপঝাড় ব্যক্তি উদ্যোগে কেটে পরিস্কার করেছি এতে মহাসড়কে ডাকাতি কমে গেছে। তাছাড়া সড়কের ধারে পড়ে থাকা পরিত্যক্ত গাড়ি, বিভিন্ন অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেছি। বিভিন্ন সোর্সের সহায়তায় কৌশল অবলম্বন করে আমরা মাদক পাচারকারীদের আটক করতে সক্ষম হয়েছি। দোহাজারী হাইওয়ে থানায় যোগদানের পর হতে আজ পর্যন্ত আমরা প্রায় ৫ লাখ ইয়াবা উদ্ধার করেছি।
মাদক পাচার রোধে সফলতার স্বীকৃতি হিসেবে আমি একাধিকবার পুরস্কৃত হয়েছি।’

সড়ক দূর্ঘটনায় হাইওয়ে থানার ভূমিকা প্রসঙ্গে ওসি মিজানুর রহমান বলেন- দূর্ঘটনার সংবাদ শুনার সাথে সাথে আমরা একটি মাত্র সরকারী গাড়ি ও ফোর্স স্বল্পতাসহ নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও দ্রুততার সাথে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। আহতদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করি।

গাড়ি সংক্রান্ত মামলার বিষয়ে বলেন- ‘কাউকে হয়রানীমূলক মামলা দিইনা, যারা ইচ্ছে করে আইনভঙ্গ করে, ফিটনেসবিহীন গাড়ি চালায় ও শিশুদের ড্রাইভার-হেলপার হিসেবে ব্যবহার করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করি।’
সড়কের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে মাসে একাধিকবার ড্রাইভার-হেল্পারদের নিয়ে সচেতনতামূলক সভা আহবান করেন বলেও জানান তিনি।

কেরানী হাটের বাস চালক নুরুল আলমের সাথে কথা বলে জানা গেছে- ‘অনেক থানায় দেখা যায় কাগজপত্র ঠিক থাকলেও হয়রানি করার জন্য গায়েবি মামলা দিয়ে থাকে। হাইওয়ে থানার বর্তমান ওসি ভালো মানুষ। কাউকে হয়রানি করতে শুনিনি।’

দোহাজারী এলাকার ড্রাইভার মোস্তাফিজ এ প্রতিবেদককে বলেন- ‘যেকোন দূর্ঘটনার খবর শুনলেই ওসি মিজান সশরীরে উপস্থিত হন। প্রাথমিক চিকিৎসা ও আহতদের খোঁজ খবর নেন। হাইওয়ে থানায় এমন একজন ওসি পেয়ে আমরা খুশী।’

ওসি মিজান ইতোপূর্বে চকরিয়া কক্সবাজার সদর মডেল থানায় সাব ইন্সপেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বিভিন্ন ক্লুলেস মামলার রহস্য উদঘাটনেও রয়েছে তাঁর বড় ধরণের সফলতা।

এ প্রসঙ্গে তাঁর সাথে কথা বলা জানা গেছে তিনি চকরিয়া থানার মেধা কচ্ছপিয়া ঢালার তিশা বাস চালক খুন ও ডাকাতি এবং ডাকাতি মামলার রহস্য উদঘাটন, হারবাং বাইন্যাছড়া ঢালায় সিএনজি চালক হত্যা ও সিএনজি ছিনতাইয়ের রহস্য উদঘাটন, হারবাং ভেইট্টার ঝিরি নামক দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় আলোচিত অজ্ঞাতনামা মাদ্রাসার ছাত্র হত্যাকাণ্ডসহ বিভিন্ন ক্লুলেস মামলার রহস্য উদঘাটন করে ব্যাপক সুনাম অর্জন করেন।

পুলিশ প্রশাসন নিয়ে বিভিন্ন সময় নেতিবাচক খবর প্রকাশ হলেও সৎ ও কর্মতৎপর অফিসারদের ইতিবাচক খবরও ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে, যা অনেক সময় প্রচারের আড়ালেই থেকে যায়।

ওসি মিজানুর রহমানের মত সকলেই নিজ নিজ কর্মস্থলে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও সততা দেখালে বদলে যাবে পুলিশ প্রশাসনের ভাবমূর্তি এমনটাই প্রত্যাশা সুধীমহলের।
ওসি মিজানুর রহমান ২০০৫ সালে পুলিশ বিভাগে যোগদান করেন। তাঁর গ্রামের বাড়ি বাঁশখালীর শীলকূপ ইউনিয়নে।

মতামত