,

কক্সবাজারে ৫৩৮ আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত

বঙ্গোপসাগর থেকে উপকূলের দিকে ধেয়ে আসা অতি তীব্র ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’র উল্লেখযোগ্য কোনো প্রভাব গতকাল বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত কক্সবাজারে দেখা যায়নি। তবে গত কয়েকদিন ধরেই সাগরের জোয়ার স্বাভাবিক উচ্চতার চাইতে সামান্য বৃদ্ধি পেয়েছে। বৃহস্পতিবার দিনের অধিকাংশ সময় কক্সবাজারের আকাশ ছিল মেঘলা। আবহাওয়া কিছুটা গুমোট। চাপা আতংকে প্রায় পর্যটকশূন্য ছিল কক্সবাজার। সাগরে মাছধরা প্রায় সকল ট্রলারই ফিরে এসেছে ঘাটে। ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় ব্যাপক প্রস্তুতি হাতে নিয়েছে কক্সবাজারের প্রশাসনও। প্রতিটি উপজেলায় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলার পাশাপাশি আশ্রয়কেন্দ্রগুলোও প্রস্তুত করা হয়েছে।

কক্সবাজারের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক আশরাফুল আবছার জানান, ঘূর্ণিঝড় ফণী মোকাবেলায় সব ধরনের প্রস্তুতি হাতে নেয়া হয়েছে। এই জন্য সকল সরকারি কর্মকর্তার ছুটি বাতিল করা হয়েছে। ফায়ার সার্ভিস, স্বাস্থ্য বিভাগ, ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ, বিদ্যুৎ বিভাগ, সিপিসি বিভাগ, পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সরকারি সংশ্লিষ্ট প্রতিটি দপ্তরকে বিশেষভাবে প্রস্তুত করা হয়েছে। একই সাথে রেডক্রিসেন্টসহ অন্যান্য স্বেচ্ছাসেবীদেরও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। জেলা প্রশাসক বলেন, প্রতিটি উপজেলাকে সমান গুরুত্ব দিয়ে প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। দুযোর্গকালীন মুহূর্তে আশ্রয়ের জন্য আট উপজেলার ৫৩৮টি আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে প্রতিটিতে ৮২৫ জন করে ৪ লাখ ৮ হাজার ৪৩ জন লোক আশ্রয় পাবে।
জেলা ত্রাণ ও দুর্যোগ কর্মকর্তা রইস উদ্দীন মুকুল জানান, দুর্যোগকালীন সময়ে বিতরণের জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী নিয়ে ৪ হাজার ৫০০ খাবার প্যাকেট প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এক প্যাকেটে একটি পরিবারের ১০ দিন যাবে। এছাড়া চিড়া ও গুড়সহ বিভিন্ন শুকনো খাদ্য সামগ্রীও মজুদ রাখা হয়েছে। ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা মো. ইদ্রিস জানান, দুর্যোগকালীন সময়ে ফায়ার সার্ভিস বিরতিহীন কাজ করবে। এই জন্য প্রতি উপজেলার ফায়ার সার্ভিস স্টেশনকে বিশেষভাবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়াও জরুরি প্রয়োজনে আরো অতিরিক্ত সেবা দেয়া হবে। এই জন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক স্বেচ্ছাসেবী প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

মতামত