,

ব্রেকিং

এরশাদ, তারেকের প্রলোভন হুমকি সত্ত্বেও আমি দল ছাড়িনি-মেয়র

নাগরিক ডেস্ক: জাতীয় পার্টি ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে প্রেসিডেন্ট হুসেইন মো এরশাদ একাধিক বার মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিনকে দলে আসার আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন এবং পরবর্তীতে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক জিয়াও তাকে বিএনপিতে যোগ দেয়ার জন্য নানা প্রলোভন এবং হুমকি দিয়েছিলেন বলে প্রকাশ করেছেন মহানগর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন।

সিটি মেয়র বলেন, এরশাদ সাহেব দলকে শক্তিশালী করার জন্য অন্য দলের মেধাবী, কোয়ালিটি নেতাকর্মীদেরকে দলে নেয়ার টার্গেট করেছিলেন। তার সেই টার্গেটে আমিও ছিলাম। জাতীয় পার্টিতে যোগ দিলে আমাকে যা চাই তা দেয়া হবে বলেও তিনি প্রলোভন দিয়েছিলেন। আমি কিন্তু নিজের আদর্শে অবিচল ছিলাম। আমি বঙ্গবন্ধুর আদর্শের কর্মী। অবশ্য তার অামন্ত্রণ ফিরিয়ে দেয়ায় আমাকে নানামুখী সমস্যায় পড়তে হয়েছিল। আমি দমে যাই নি।

বেগম খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক জিয়া তো রীতিমত আল্টিমেটাম দিয়েছিলেন। হয় দলে আসতে হবে নয়তো মৃত্যু পরোয়ানা। আমি আমার নীতি, আদর্শ ও সিদ্ধান্তে অটল ছিলাম।

আজ দুপুরে থিয়েটার ইন্সটিটিউট অডিটোরিয়ামে ” দৃষ্টি” আয়োজিত আড্ডায় নিজের উঠে আসার গল্প শোনালেন চট্টগ্রাম সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন। আড্ডা য় ‘দৃষ্টি’ ও বিভিন্ন শ্রেণি পেশাজীবী মেয়রকে নানামুখী প্রশ্ন করে। মেয়র এক এক করে সকলের প্রশ্নের উত্তর দেন।

দৃষ্টিঃ মৃত্যুর দুয়ার থেকে আপনি কয়েকবার ফিরে এসেছেন – একটু বলুন।
মেয়রঃ আল্লাহর দয়ায় আমি মৃত্যুর দুয়ার থেকে আমি তিন বার ফিরে এসেছি। একবার সাম্পানে করে কর্ণফুলী পাড়ি দিয়ে বিএমডিসি যাচ্ছিলাম। সাম্পান থেকে আমার আগে দুই জন নেমে যান। আমি নামতে গিয়ে নদীতে পড়ে যাই। ভাগ্যিস পড়ে যাওয়ার সাথে সাথে আমি পাশের জাহাজের নোঙর লাগামো দড়ি ধরে ঝুলে থাকি। নয়তো স্রোতের টানে হয়তো জাহাজের নিচেই সলিল সমাধি ঘটতো আমার। আরেক বার ট্রেনে কাটা পড়া থেকে বেঁচে যাই অলৌকিক ভাবে। চট্টগ্রাম স্টেশনে ট্রেনের লাইন ধরে হাঁটছি। কিন্তু অমনোযোগী থাকাতে ঐ লাইন ধরে স্টেশনে আসা মেইল ট্রেনের হুইসেল আমি শুনতে পাইনি। আমার একটু দূরে থাকা পরিচিতরা আমাকে নাকি ডাকাডাকি করেছে অনেকবার। কিন্তু কোন এক অজানা কারণে আমি কারো ডাক শুনতে পাই নি। হঠাৎ করে ট্রেন পনের বিশ ফুট দূরত্বে থাকা অবস্থায় কানে লাগে ‘ট্রেন’ বলে একটি শব্দ। আমি দৌঁড়ে লাইন থেকে নেমে পড়ি। সেদিন যদি মারা যেতাম তাহলে নির্ঘাত সবাই বলতো আমি অাত্মহত্যা করেছি।

অপারেশন ক্লীন হার্টের সময় শুভাকাঙ্ক্ষীরা আমাকে বললেন, দ্রুত সরে পড়ার জন্য। শুনতে পেলাম আমি নাকি তালিকায় রয়েছি। যেকোন মুহুর্তে ক্রসে যেতে পারি। যে রাতে সেনাবাহিনী আমাদের বাড়ি রেইড দেয়। সেদিনও আমিও সতর্ক বার্তা পাই সরে যাওয়ার। সামাজিক অনুষ্ঠানাদি সেরে আমি রাত ১২ টা নাগাদ বাসায় ফিরি। দুশ্চিন্তায় ঘুম হচ্ছিল না। তিনটার দিকে ঘুম ভেঙে যায়। আমি সেদিন একটু আগেই মসজিদে চলে আসি নামায পড়তে। দেখি মসজিদের গেইটও বন্ধ। পরে ডাকাডাকি করে গেইট খুলে আমি মসজিদে ঢুকে নামায আদায় করি। নামাজ শেষে ফেরার পথে দেখি আমার ছোট ভাই হাসান দৌঁড়ে এসে আমাকে চুপিচুপি বলে সেনাবাহিনী বাড়ি রেইড দিয়েছে। আমি অন্য গেইট দিয়ে নেমে টেক্সি নিয়ে দ্রুত সরে যাই। সেদিন আমার বড় ভাইদের কাউকেই বের হতে দেয়া হয়নি। কিন্তু আমার ছোট ভাই বের হওয়ার সময় সেনাবাহিনী কিছু বলেননি। এটা ই মনে হয় আমার জন্য আল্লাহর দোয়া ছিল।

দৃষ্টিঃ এবারের সম্মিলিত বই মেলা সারা দেশে সারা ফেলেছে – বিষয়টা আপনার কাছ থেকে শুনতে চাচ্ছি।
মেয়রঃ চট্টগ্রামে একটি সম্মিলিত বই মেলা করার জন্য সৃজনশীল লেখক পাঠক, সংস্কৃতি কর্মীদের সবাই দাবী তুলেছিল। আমিও এ ব্যাপারে তাদের আশ্বস্ত করেছিলাম। বলেছি আপনারা সহযোগিতা করলে অবশ্যই সম্মিলিত ভাবে একটা বই মেলা করা যায়। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন মেলা আয়োজন করেছে তবে সবাই সহযোগিতা করেছে বলেই মেলা সফল হয়েছে।

দৃষ্টিঃ নগরে মেট্রো রেল চালুকরণ বিষয়ে একটু জানতে চাই?
মেয়রঃ চট্টগ্রামে বেকবোন রোড হচ্ছে বহদ্দার হাট- এয়ারপোর্ট রোড। এই সড়কটি এখন ফ্লাইওভার, এলিভেটেড এক্সপ্রেস ওয়ে প্রকল্পের কারণে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এই মন্তব্য আমার নয়। নগরের অধিকাংশ প্রকৌশলী এবং নগর পরিকল্পনাবিদের মন্তব্য। উনারা এই নিয়ে বিভিন্ন কর্মসুচি করছেন। কিন্তু এটাও তো সরকারের কাজ। তবে জনগণ এবং নগরের ভবিষ্যত চিন্তা করে দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা করা দরকার ছিল। নগরের জন্য চট্টগ্রাম ওয়াসা, উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ মাষ্টার প্ল্যান করেছে। আমরাও একটি মাস্টার প্ল্যান তৈরির চিন্তা করছি। তবে সকল সংস্থার সম্মিলিত প্রয়াসের মাধ্যমেই নগরের জন্য মাষ্টার প্ল্যান গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

আড্ডায় নগরের উন্নয়ন, সৌন্দর্য্য বর্ধন নিয়ে কার্যক্রম তুলে ধরেন প্যানেল মেয়র ড. নিছার উদ্দিন আহমেদ মঞ্জু, কাউন্সিলর শৈবাল দাশ সুমন, কবি সাংবাদিক ওমর কায়সার, থিয়েটার ইন্সটিটিউট পরিচালক আহমেদ ইকবাল হায়দার, ছড়াকার জিন্নাহ চৌধুরী, সাইফুদ্দিন প্রমুখ। আড্ডায় বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা নগরের নানা সমস্যা নিয়ে মতামত উপস্থাপন করেন।

এম.এ/

মতামত