,

নারকীয় পিলখানা হত্যাকাণ্ডের ১০ বছর আজ

আজ ২৫ ফেব্রুয়ারি, দেশের ইতিহাসের কলঙ্কময় এক অধ্যায়। বিডিআর বিদ্রোহ ও হত্যাযজ্ঞের দশ বছর পূর্ণ হলো আজ। বিডিআরের কথিত কিছু বিপথগামী সদস্য দাবি-দাওয়ার নামে অগ্নিসংযোগ, লুটপাট ও নির্মম হত্যাযজ্ঞের মাধ্যমে পিলখানায় নারকীয় তাণ্ডব চালিয়ে মহাপরিচালকসহ ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাকে নৃশংসভাবে হত্যা করে। এ ঘটনায় নিহত হয় নারী ও শিশুসহ আরও ১৭ জন। নিহতদের মধ্যে ছিলেন বিডিআর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদ, তার স্ত্রী, বাসার কাজের মেয়ে ও বেড়াতে আসা আত্মীয়রাও।

ইতিহাসের সেই বিভীষিকাময় দিন নারকীয় হত্যকাণ্ডের মামলার বিচারকাজ চলছে দুই ভাগে। হত্যা মামলার বিচার শেষ হয়েছে নিম্ন আদালত ও হাইকোর্টে। তবে হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ হয়নি এখনোও। এতদিনেও রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি না পাওয়ায় আটকে আছে আরও একটি ধাপ। এখন শুধু অপেক্ষা পূর্ণাঙ্গ রায়ের কপি প্রকাশিত হওয়ার। এরপর পরবর্তী কার্যক্রম হিসেবে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষ আপিল বিভাগে চূড়ান্ত আপিল করবে। এটি নিষ্পত্তি হলে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের ফাঁসির মঞ্চে নিতে সব আইনি প্রক্রিয়া শেষে রিভিউ ও রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার বিষয়ও সুরাহা হতে হবে। রাষ্ট্রপক্ষের প্রত্যাশা- জঘন্যতম এ হত্যাকাণ্ডে হাইকোর্টের দেওয়া রায় সর্বোচ্চ আদালতে বহাল থাকবে। এ ছাড়া বিস্ফোরক আইনে করা আরেকটি মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণ চলছে।

২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানা ট্র্যাজেডিতে ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন নিহত হন। ওই বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি লালবাগ থানায় হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে দুটি মামলা দায়ের করেন তৎকালীন পুলিশ পরিদর্শক নবজ্যোতি খিসা। পরে মামলা দুটি নিউমার্কেট থানায় স্থানান্তর হয়। ২০১০ সালের ১২ জুলাই পিলখানা হত্যা মামলায় ৮২৪ জনকে আসামি করে চার্জশিট দেয় সিআইডি। পরে সম্পূরক চার্জশিটে আরও ২৬ জনকে আসামি করা হয়। পিলখানা হত্যা মামলার ২৩৩তম কার্যদিবসে মামলায় ১২৮৫ জনের মধ্যে ৬৫৪ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দেন। ২০১১ সালের ৫ জানুয়ারি হত্যা মামলার বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। ওই বছরের ২২ আগস্ট অভিযোগ গঠন করা হয়।

পিলখানা বিদ্রোহের ঘটনায় দায়ের করা সব বিদ্রোহ মামলার বিচার শেষ হয়েছে। ২০১৬ সালের ২০ অক্টোবর সদর রাইফেলস ব্যাটালিয়নের ৭২৩ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়ার মধ্য দিয়ে বিদ্রোহ মামলার বিচার শেষ হয়। বিদ্রোহের ঘটনায় ১১টি বিশেষ আদালতে ৬ হাজার ৪৬ জওয়ানকে বিচারের মুখোমুখি করা হয়। এদের মধ্যে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা হয়েছে ৫ হাজার ৯২৬ জনের। খালাস পান ১১৫ জন। পিলখানা বিদ্রোহের পর বিডিআরের নাম, লোগো, পতাকাও পরিবর্তন করা হয়।

মতামত