,

প্রিন্সিপাল আবুল কাসেম বইমেলাঃ চন্দনাইশের ঐতিহ্য

(১৯-২১ ফেব্রুয়ারী অনুষ্ঠেয় চন্দনাইশে চতুর্থ প্রিন্সিপাল আবুল কাসেম বইমেলা ২০১৯ উপলক্ষে)

সৈয়দ শিবলী ছাদেক কফিল: বর্তমান সময়ে ঢাকা-চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন বিভাগীয় ও জেলা শহরে সগৌরবে অনুষ্ঠিত হয় বইমেলা। বিশেষ করে- বাংলা একাডেমির অমর একুশে গ্রন্থমেলা, ঢাকা জাতীয় বইমেলা, চট্টগ্রামের অমর একুশে বইমেলা ইত্যাদি। বইমেলার বিশেষ গুরুত্ব এবং আবেদনও থাকে যথেষ্ট। বিভাগীয় ও জেলা শহর ছাড়াও সাম্প্রতিককালে বইমেলার ব্যাপক কদর বেড়েছে এবং সাফল্যের সাথে তা সম্পন্ন হয়। চন্দনাইশ পৌরসদরে উপজেলার প্রথম হিসেবে ২০১৬ সালের ফেব্রæয়ারি মাসে প্রিন্সিপাল আবুল কাসেম ট্রাস্টের আয়োজনে প্রিন্সিপাল আবুল কাসেম বইমেলা যাত্রা করে। ভাষা আন্দোলন ও শহীদ স্মরণে এবং ভাষা আন্দোলন সূচনাকারী, সাবেক গণপরিষদের সদস্য, ঢাকাস্থ সরকারি বাঙলা কলেজের প্রতিষ্ঠাতা, তমদ্দুন মজলিসসহ বহু প্রতিষ্ঠান ও সংগ্রামের অন্যতম স্থপতি প্রিন্সিপাল আবুল কাসেমকে অমর করে রাখতে চন্দনাইশের প্রিন্সিপাল আবুল কাসেম বইমেলার সূচনা হয়।

“বই হোক আমার সাথী, বই হোক সবার সাথী” এ শ্লোগান নিয়ে এবার চতুর্থবারের মত অনুষ্ঠিত হচ্ছে প্রিন্সিপাল আবুল কাসেম বইমেলা -২০১৯। প্রতি বছর ফেব্রুয়ারি মাসে এ মেলা অনুষ্ঠিত হয়। শুরু থেকে এ অবধি বইমেলার সকল কার্যক্রম সর্বসাধারণের যথেষ্ট আস্থা ও সুনাম অর্জন করেছে। গণমানুষকে করেছে বইপ্রেমী। এইমেলা আরো বেশি উদ্দীপ্ত ও অনুপ্রাণিত করবে এ প্রত্যাশা চন্দনাইশবাসী পোষণ করছেন।

প্রিন্সিপাল আবুল কাসেম বইমেলায় বরাবরই চট্টগ্রাম -১৪ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য, চন্দনাইশ উপজেলা পরিষদ, উপজেলা প্রশাসন, পৌরসভা, পুলিশ প্রশাসন, চন্দনাইশ ছাত্র সমিতি চট্টগ্রাম, চন্দনাইশ প্রেস ক্লাব, চন্দনাইশ রিপোর্টার্স ইউনিটি, চন্দনাইশ সাংবাদিক সমিতি ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা থাকে স্মরণযোগ্য।

মেলার শুরুতেই প্রিন্সিপাল আবুল কাসেম ট্রাস্ট, চন্দনাইশ ছাত্র সমিতি, চন্দনাইশ পৌরসভা, ব্যাক্তিপর্যায়ে নজরুল ইসলাম চৌধুরী এমপি, মেলার প্রধান পৃষ্ঠপোষক প্রিন্সিপাল আবুল কাসেম ট্রাস্টের সেক্রেটারি মাহমুদ বিন কাসেম, উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল জব্বার চৌধুরী, পৌরমেয়র মাহবুব আলম (খোকা), সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান খালেদা আকতার চৌধুরী, বাংলাদেশ ব্যাংকের যুগ্নপরিচালক একরাম হোসেন, তৎকালীন ইউএনও সনজীদা শরমিন, তৎকালীন ওসি আবুল কাসম ভূঁইয়া, অধ্যাপক ও লেখক আবু তালেব বেলাল, চন্দনাইশ ছাত্র সমিতির সভাপতি নোমান উল্লাহ বাহার, সাংবাদিক সৈয়দ শিবলী ছাদেক কফিল, এনজিও ব্যাক্তিত্ত: মোঃ নুরুল হক চৌধুরী, মাস্টার শিল্পোদ্যোক্তা নজরুল ইসলাম, মাস্টার শাহজাহান আজাদ, তানভীর আহমদ সিদ্দিকী প্রমুখ প্রানান্ত সহযোগিতা করেন এ মেলার সফল সুচনায়।

এই মেলামঞ্চে প্রতিবছর বিভিন্ন লেখকের বই প্রকাশনা উৎসব ও মোড়ক উম্মোচন হয়। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও স্থানীয় সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর পরিবেশনায় অনুষ্ঠিত হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এছাড়াও মেলা উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচীতে থাকে আলোচনা সভা, কবিগান, পুঁথিপাঠ, জারিগান, বিতর্ক প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং ঐতিহাসিক ছবি প্রদর্শনী ইত্যাদি।

এই বইমেলায় বাংলা একাডেমি, শিশু একাডেমি, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, চলচিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর, তথ্য অধিদপ্তর, শুদ্ধ বানান চর্চা (শুবাচ), মনন প্রকাশন, বসন্ত প্রকাশনী, মমভাষা, ডিজিটাল হাউজ, মৌমিতা, সুখপাঠ, মানুষের ঠিকানা, মাতৃভূমি, আধুনিক লাইব্রেরি প্রভৃতি প্রতিষ্ঠানের স্টলে বই প্রদর্শনী ও বিক্রি হয়। বইয়ের তালিকায় থাকে নোবেল বই, ইতিহাস, উপন্যাস, প্রবন্ধ, গল্প, নাটক, কবিতা, ছড়া, কৌতুক, কার্টুন, বিভিন্ন শ্রেণির পাঠ্যবই ইত্যাদি।

এই বইমেলায় নারী-পুরুষ, মুসলিম-হিন্দু-বৌদ্ধ, ধনী-গরীব, বড়-ছোট সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের সমাগম ঘটে। চন্দনাইশের পৌর জনপদে মেলাটি পরিণত হয় প্রাণের উৎসবে। যেখানে কোন থাকে না কোন বৈষম্য, থাকে না কোন সংঘাত। সকলে সমবেত হন যেন নিকট আত্মীয় হয়ে।

চন্দনাইশের প্রিন্সিপাল আবুল কাসেম বইমেলা ২০১৯ বরাবরের মত এবারও সাফল্যের সাথে সম্পন্ন হবে- এ বিশ্বাস এলাকাবাসীদের। উৎসাহী জনগণ এ মেলার জন্য অধীর প্রতীক্ষায় উদগ্রীব হয়ে আছেন। এ মেলা পল্লী জনপদের জন্য প্রেরণা ও বিখ্যাত ইতিহাস বা ঐতিহ্য হয়ে থাকবে।

মতামত