,

জমে উঠেছে চট্টগ্রাম বইমেলা

বিশেষ প্রতিবেদক, নাগরিক নিউজ: চট্টগ্রামে ১৯ দিন ব্যাপী অমর একুশে বইমেলায় শুক্রবার দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় নগরবাসী বই কিনতে ও ঘুরে বেড়াতে ছুটে এসেছেন তাদের প্রাণের মেলা চত্বরে। আজ শনিবারও সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় অন্যান্য দিনের চেয়ে নির্ধারিত সময়ের আগেই মেলার স্টলগুলো খোলা হয়েছে।
গতকাল সন্ধ্যার পর নানা বয়সী মানুষের উপচে পড়া ভিড়ে মেলা চত্বর পরিণত হয় মিলনমেলায়। আর শিশু থেকে বুড়ো সব বয়সী মানুষের উচ্ছ্বাসও ছিল দেখার মতো।

গত কয়েক বছর থেকেই এমন বড় পরিসরে বইমেলা হওয়ার কথা থাকলেও হয়নি। তবে এবার প্রথমবারের মত চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে ঢাকার অাদলে বড় পরিসরে আয়োজিত হয় বইমেলা। শুরুর দিন থেকেই বেশ জমে উঠেছে এই বইমেলা। অন্যান্য দিনের তুলনায় গতকালের বইমেলায় ছিল উপচে পড়া ভিড়। চট্টগ্রাম এম এ আজিজ স্টেডিয়াম সংলগ্ন জিমনেশিয়াম মাঠের ভেতরে বাইরে ছিল লোকে লোকারণ্য।

বইমেলা চত্ত্বর মুখর হয়ে ওঠে গতকাল। দর্শনার্থীরা ঘুরে ঘুরে স্টল দেখে, বই কেনে ও ছবি তোলে। এরই মধ্যে কথা হয় বাঁশখালী থেকে সপরিবারে আগত তরুণ ব্যবসায়ী নুরুল আমানের সাথে। তিনি বলেন, ব্যবসায়িক ব্যস্ততায় পরিবারকে সময় দেয়া সম্ভব হয় না সবসময়। পরিবার শহরে থাকলেও ব্যবসার কারণে আমি গ্রামে থাকি। ঢাকার মতো চট্টগ্রামেও এত সুন্দর মেলা হচ্ছে। তাই সময় বের করে পরিবারকে নিয়ে মেলা দেখতে এলাম’।

চট্টগ্রাম সরকারি মুহসিন কলেজের শিক্ষার্থী সাইফুল ইসলাম বলেন, ছোটবেলা থেকেই আমি বই পড়তে ভালোবাসি। বাসায় রয়েছে বইয়ের বিপুল সম্ভার। তারপরও নতুন বইয়ের খোঁজে মেলায় এসেছি। আমি কিছু রাজনৈতিক প্রবন্ধের বই কিনবো।

টিউশনের ছাত্রদের নিয়ে এসেছিল জুনায়েদুল ইসলাম নামে এক শিক্ষার্থী। তিনি জানান, তার ছাত্রদেরকে তিনি বেশ কিছু কিশোর উপন্যাস কিনে দিয়েছেন।

কয়েকজন প্রকাশক জানান, ছুটির দিনে লোক সমাগম ও বইয়ের বিক্রি উভয়ই ভালো হচ্ছে। শিশুতোষ বই, কমিকস, কবিতার বই, উপন্যাস আর ইতিহাসের বইয়ের কাটতি বেশি এবারের বইমেলায়।

নগর ও নাগরিক সভাপতি লায়ন এম. আইয়ুব বইমেলায় এসেছিলেন মা ও স্ত্রী-কন্যাকে নিয়ে। তিনি মেলার পরিসর ও ব্যবস্থাপনা দেখে বলেন, মেয়র আ.জ.ম নাছির উদ্দীনের আন্তরিক প্রচেষ্ঠায় এমন একটা বইমেলায় চট্টগ্রামবাসী পেয়েছে, যা প্রকাশক-লেখকদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল। চট্টগ্রাম নগরীকে তিনি যেমন সুন্দর করে তুলছেন তেমনি বইমেলাকেও তিনি ভবিষ্যতে আরো সুন্দর করে তুলবেন।

সালফি পাবলিকেশন্সের মালিক কবি মিনহাজুল ইসলাম মাসুম জানান, বইমেলা সত্যিকার অর্থে জমে উঠেছে। তিনি সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, আরো কিছু স্টল মেলায় আসার জন্য চেষ্টা করেছিল। তাদেরও সহজ শর্তে আসার সুযোগ দিলে প্রকৃতপক্ষে বইমেলারই লাভ হতো। তিনি জানান, হুমায়ূন আহমেদের বই চলছে খুব।

মেলায় অংশ নেওয়া প্রকাশনীগুলোর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ শিশু একাডেমি, গ্রন্থ কুটির, আগামী, প্রিয়মুখ, কাকলী, ঝিঙেফুল, ইউপিএল, রিমঝিম, অক্ষরবৃত্ত, ভাষাচিত্র, শব্দশিল্প, অনুপম, দাঁড়িকমা, অন্যপ্রকাশ, সালফি, বলাকা, পূর্বা, রঙপেন্সিল, অনন্যা, অনিন্দ্য, প্রথমা, পেন্সিল, মনন, নন্দন, আদিগন্ত, শালিক, হাওলাদার, শিশুপ্রকাশ, শৈলী, হরিৎপত্র, প্রজ্ঞালোক, খড়িমাটি, চন্দ্রবিন্দু, আবির, বাতিঘর, দ্বীন-দুনিয়া, পাপড়ি, কথন। প্রায় সব স্টলেই দেখা গেছে দম ফেলার ফুরসত মিলছে না বিক্রয়কর্মীদের।

প্রতিদিন যথারীতি নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন, লেখক-পাঠক আড্ডা, বিষয়ভিত্তিক আলোচনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ নিয়মিত কার্যক্রমগুলো রয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ১০ ফেব্রুয়ারি ১৯ দিনব্যাপী অমর একুশে বইমেলা উদ্বোধন করেন তথ্যমন্ত্রী হাসান মাহমুদ এমপি। এবারের বইমেলায় মোট ১১০ টি প্রকাশনী অংশ নেয়। এর মধ্যে ৬০ টি ঢাকার আর ৫০ টি চট্টগ্রামের। প্রতিদিন বিকেল ৩ টা থেকে রাত ৯ টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকে এই বইমেলা।

মতামত