,

ফের মিলারে বিধ্বস্ত পাকিস্তান

নাগরিক স্পোর্টস: আগের ম্যাচেই ৪ ক্যাচ আর ২ রান আউটের জাদুকরী পারফরম্যান্সে নিশ্চিত জয় থেকে পাকিস্তানকে বঞ্চিত করেছিলেন ডেভিড মিলার। দ্বিতীয় ম্যাচেও সেই মিলারই হন্তারকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হলেন। তবে এবার ‘ব্যাটসম্যান’ হিসেবে। মিলারের ‘কিলার’ ভূমিকার কারণেই দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ৭ রানের পরাজয়ে সিরিজ খুইয়ে ফেলেছে পাকিস্তান।

জোহানেসবার্গে রোববার (৩ ফেব্রুয়ারি) পাকিস্তানকে হারিয়ে সিরিজ জয় দক্ষিণ আফ্রিকার অবশ্যই অনেক বড় অর্জন। এই পাকিস্তান ২০১৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর টানা ১১টি টি-টোয়েন্টি সিরিজ জেতার কীর্তি গলায় ঝুলিয়েই এই সফরে এসেছিল।

দ্বিতীয় ম্যাচটিও প্রথমটির মতোই ছড়ায় উত্তেজনা। তবে এবারো তীরে এসেই তরি ডুবে শোয়েব মালিকদেরই। 

দক্ষিণ আফ্রিকার ফেহলুকাইয়ো বল হাতে শেষ ওভারে পাকিস্তানের সর্বনাশ করেন। নখ কামড়ানো ওই ওভারের শেষ ৫ বলে মাত্র ২ রান খরচ করে দুই উইকেট তুলে নেন এই পেসার। তবে তার আগ পর্যন্ত ম্যাচের ভাগ্য সুতোয় ঝুলছিল। প্রথম বলেই বাউন্ডারি হাঁকিয়ে লক্ষ্য ১১ রানে নামিয়ে আনেন বাবর আজম। কিন্তু ব্যক্তিগত ৯০ রানে বাবর বিদায় নিলে স্বপ্নভঙ্গ হয়ে পাকিস্তানের। তার আগ পর্যন্ত ম্যাচের নায়ক হওয়ার প্রায় সব উপাদানই তার ইনিংসে ছিল।

ব্যাট হাতে ফিফটি হাঁকিয়ে বাবরকে ভালোই সাপোর্ট দিয়েছিলেন হুসেন তালাত। দুজনে মিলে সেঞ্চুরির জুটিও গড়েছিলেন। কিন্তু ডেথ ওভারে প্রোটিয়া বোলাররা অসাধারণ পারফর্ম করে তাদের আশার গুড়ে বালি ছিটিয়ে দেন। তাদের সামনে ধুঁকতে থাকা পাক ব্যাটসম্যানরা শেষ পর্যন্ত হেরেই যান।

শুরুতে ফখর জামান, বাবর আর তালাতের দাঁড়িয়ে যাওয়া ঠেকিয়ে দেন অভিষিক্ত প্রোটিয়া তারকা লুথো সিপামলা। মাথা ঠাণ্ডা রেখে ৪ ওভারে বল প্রতি ১ রানের চেয়ে কম খরচ করে পাকিস্তানের রান রেটে বাধ সাধেন এই তরুণ। 

পাকিস্তান ইনিংসের শেষটা যেভাবে রং হারিয়েছে, দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংস সেসময় পুরো চাঙ্গা। এই ম্যাচের প্রোটিয়া অধিনায়ক মিলার ব্যাট হাতে দাঁড়িয়ে যান। ব্যাট হাতে ঝড় তুলে টানা দ্বিতীয় ম্যাচে ম্যাচসেরা নির্বাচিত হন এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান।

দক্ষিণ আফ্রিকা ইনিংসের ভিত্তি গড়ে দেন রিজা হ্যানড্রিকস ও অভিষিক্ত জানিমান মালান। যদিও দুজনে হালকা চালে ব্যাট চালিয়েছেন। মূলত এই এই দুজনকে ভুগিয়েছেন পাকিস্তানি বাঁহাতি স্পিনার ইমাদ ওয়াসিম। চার ওভারের স্পেলে ১৭টি ডট দিয়ে মাত্র ৯ রান খরচ করেছেন তিনি। শাহিন আফ্রিদিও বল হাতে বেশ ভুগিয়েছেন এই জুটিকে।

স্বাগতিকদের চাপ থেকে মুক্ত করেন মিলার। যদিও শুরুটা করেন রাসি ভ্যান ডার ডুসেন। ২৭ বলে ৪ ছক্কায় ৪৫ রান করেন তিনি। কিন্তু আসল তারকা সেই মিলারই। ২৯ বলে ৬৫ রান করেন এই বিধ্বংসী ব্যাটসম্যান। ৩ উইকেটে ১৮৮ রান তুলেও ঠুক স্বস্তিতে ছিল না দক্ষিণ আফ্রিকা। যদিও শেষ পর্যন্ত জয়ে নিয়েই মাঠ ছেড়েছে তারা, সেই সঙ্গে ঝুলিতে পুরেছে সিরিজও।

এম.এ/১৩৬

মতামত