,

আগামী মার্চে ইউনিটের সম্মেলন শুরু করতে যাচ্ছে নগর আ’লীগ

যেসব ওয়ার্ডে এখনো সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন কার্যক্রম শুরু হয় নি। আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই ওয়ার্ড গুলোতে তা সম্পাদন করে ফেলার জন্য স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছে নগর আওয়ামী লীগ সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন কার্যক্রম সম্পন্ন হয়ে গেলেই নতুন পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করবে সংগঠনটি।

এই কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সংগঠনের ইউনিট পর্যায় থেকে কমিটি গঠন কাজ শুরু করার পরিকল্পনা নিয়েছে মহানগর। আগামী ১ মার্চ থেকেই ইউনিট সম্মেলন করার সিদ্ধান্তও নেয়া হয়েছে।

এ লক্ষ্যে ওয়ার্ড নেতৃবৃন্দকে সম্মেলন আয়োজনের প্রস্তুতি গ্রহণ করার পাশাপাশি সম্মেলন আয়োজনের স্বার্থে মৃত্যুবরণ, বার্ধক্যজনিত অনুপস্থিতি বা প্রবাসে থাকা নেতাদের শূণ্যতা পূরণে আহবায়ক কমিটি গঠনের ব্যাপারেও তৃণমূলে নির্দেশনা দিয়েছে মহানগর।

সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, সংগঠন শক্তিশালীকরণ ও নবীন-প্রবীণের সমন্বয়ে আগামীর ভ্যানগার্ড নির্ভর দল গঠনের অঙ্গীকার বাস্তবায়নে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছে চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগ।

আজ বিকালে জেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত বর্ধিত সভায় সমুহ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগ ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন বলেন, সংগঠনের গত বর্ধিত সভায় আমরা সাংগঠনিক ভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছি সম্মেলন অনুষ্ঠান আয়োজনের। নগরের ৪১টি পূর্নাঙ্গ ওয়ার্ড, দুটি সাংগঠনিক ওয়ার্ড, ১৬টি থানা আওয়ামী লীগ কমিটির মেয়াদ অনেক আগেই শেষ হয়ে গেছে। থানা বা ওয়ার্ড পর্যায়ের অনেক কমিটির বয়স বর্তমানে ১৫/১৬ বছর হয়েছে। মহানগর আওয়ামী লীগের বর্তমান কমিটির বয়সও এখন প্রায় পাঁচ বছর বহমান।

আওয়ামী লীগের মত একটা সংগঠনের মহানগর পর্যায়ে এমন অবস্থা দলের গঠনতন্ত্র পরিপন্থী। তাছাড়া দীর্ঘদিন ধরে বহাল থাকায় নানামুখী সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। এতে করে একদিকে সৃষ্টি হয়েছে সাংগঠনিক স্থবিরতা। অন্যদিকে সৃষ্টি হয়েছে সাংগঠনিক দুর্বলতা। দায়িত্বে থাকা অনেক নেতা মারা গেছেন। আবার কেউ বিদেশে।

তাছাড়া দীর্ঘদিন ধরে মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির কারণে দ্বৈত কমিটি গঠন, আহবায়ক কমিটি গঠনসহ বিগত সময়ে নানান সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে দলকে। এতদিন এই ব্যাপারে পরিকল্পনা থাকলেও তা নির্বাচনের জন্য বাস্তবায়ন করা হয়নি। এখন সম্মেলন আয়োজনের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত কার্যকর শুরু হবে।

আগামী মার্চের প্রথম দিন থেকেই ইউনিট পর্যায়ে কমিটি গঠন শুরু হবে। সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে সম্মেলন অনুষ্ঠান করে কমিটি গঠন করা হবে। তারপর ওয়ার্ড কমিটি, থানা কমিটিও একই ভাবে গঠন করা হবে। এসব হয়ে গেলে তারপর মহানগর কমিটি গঠনের ব্যাপারে কেন্দ্রে আবেদন জানানো হবে। কেন্দ্রের নির্দেশনা আসলেই মহানগর কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেয়া হবে। মোট কথা সংগঠন গঠনতন্ত্র মোতাবেক পরিচালিত হতে হবে।

তবে আমরা এর মধ্যে সাতটি ওয়ার্ডের দ্বৈত কমিটি ভেঙে করে দেয়া আহবায়ক কমিটিগুলোকে পূর্নাঙ্গ কমিটি করে দেব। এক সপ্তাহের মধ্যে এই কাজ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।

মতামত