শহীদ হাবিব: যুগে যুগে বাঁশখালীর মাটিতে জন্ম নিয়েছেন অনেক জ্ঞানী গুণী ও মনীষী। যারা ধন্য করেছেন বাঁশখালীর মাটিকে, যারা এই বাঁশখালীকে পরিচিত করেছেন বিশ্বের দরবারে, মাথা উঁচু করেছেন বাঁশখালীর। আজ বাঁশখালীর এমনই একজন কীর্তিমান পুরুষের জন্মদিন। যিনি আপন আলোয় সমুজ্জ্বল মানুষ গড়ার এক জীবন্ত কারিগর, যিনি দেশ থেকে দেশান্তরে নিরলসভাবে করে গেছেন জ্ঞানের চাষাবাদ। তিনি হলেন বাঁশখালীর পুইছড়ি ইউনিয়নের কৃতী সন্তান বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও কলামিস্ট প্রফেসর জামাল উদ্দীন চৌধুরী স্যার।
আজ স্যারের ৬৫ তম জন্মবার্ষিকী। এই শুভক্ষণে স্যারের প্রতি রইল বিনম্র শ্রদ্ধা-ভালবাসা ও অজস্র শুভ কামনা।
সংক্ষিপ্ত বর্ণনায় প্রিয় জামাল স্যার
____________________­_____________
প্রফেসর জামাল উদ্দীন চৌধুরী। এক কথায় মানুষ গড়ার এক জীবন্ত কারিগর। তিনি একাধারে শিক্ষক, কলামিস্ট ও সমাজসেবক। জন্মগ্রহণ করেন ১৯৫২ সালের ১ অক্টোবর বাঁশখালীর পুইছড়ি ইউনিয়নের সম্ভ্রান্ত পুুইছড়ি জমিদার বাড়িতে। পিতা মাওলানা আবদুর রহমান চৌধুরী, মাতা ছেমন আরা বেগম চৌধুরাণী। তিনি ১৯৮৭ সালে চট্টগ্রামের রাউজানের মহিয়সী নারী ফাউজিয়া শেলী চৌধুরীর সাথে পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ হন। ব্যক্তিগত জীবনে জামাল উদ্দীন চৌধুরী দুই সন্তানের জনক। এরা হলেন- সেজাদ রহমান চৌধুরী অনিক এবং রাগিব রহমান চৌধুরী। বড় ছেলে সেজাদ রহমান চৌধুরী University College London থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন এবং ছোট ছেলে রাগিব রহমান চৌধুরী বিশ্ববিখ্যাত Oxford University তে স্নাতক পর্যায়ে অধ্যয়নরত আছেন।

# শিক্ষাজীবনঃ
এই মহান জ্ঞান তাপসের পাঠ্যজীবন শুরু হয় ১৯৫৭ সালে বাঁশখালীর পশ্চিম পুইছড়ি গ্রামের ইজ্জতীয়া প্রাইমারী স্কুলে। তিনি বাঁশখালীর নাপোড়া শেখেরখীল উচ্চ বিদ্যালয় হতে ১৯৬৭ সালে এসএসসি পাশ করেন। তারপর ১৯৬৯ সালে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ হতে এইচএসসি পাশ করেন। পরবর্তীতে তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় হতে গণিত বিভাগে কৃতিত্বের সঙ্গে ১৯৭৫ সালে স্নাতক এবং ১৯৭৬ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রী অর্জন করেন। তারপর তিনি যুক্তরাজ্যের Greenwich University London হতে ১৯৮৭ সালে কৃতিত্বের সহিত PGCE সম্পন্ন করেন।

# পেশাজীবনঃ
অসম্ভব মেধা ও মননের অধিকারী এ মহান বিদ্বান শিক্ষকতাকেই পেশা হিসেবে গ্রহণ করেছেন এবং নিরলসভাবে করেছেন জ্ঞানের চাষাবাদ। পেশাজীবনের শুরুতে তিনি ১৯৭৯ সালে ইরানের Iranian Airforce এ যোগ দেন। সেখানে দুই বছর চাকুরীর পর ১৯৮১ সালে তিনি আলজেরিয়ার Ministry of Education এ যোগদান করেন। সেখানে তিনি দীর্ঘ ছয় বছর শিক্ষকতার পেশায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন। এসময় তিনি আলজেরিয়ার প্রথম প্রেসিডেন্ট আহমেদ বেন বেল্লার সাথে সাক্ষাতের সুযোগ পান। তারপর তিনি ১৯৮৭ সালে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে চলে যান। ওখানে গিয়ে তিনি ১৯৮৭ সালে Greenwich University London থেকে এক বছর মেয়াদী PGCE ডিগ্রী সম্পন্ন করেন। তারপর তিনি ১৯৮৮ সালে যুক্তরাজ্য সরকারের British Citizenship পান। এরপর তিনি ১৯৮৮ সাল হতে ২০১৩ সাল পর্যন্ত Saint Paul’s Secondary School and College London, Morpeth Secondary School and College London সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করেন। সর্বশেষ তিনি Cumberland Sports College London এর গণিত বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং ২০১৩ সালে তিনি অবসর গ্রহণ করেন। বর্তমানে তিনি সপরিবারে লন্ডনের Newbury Park IG2 7DY এলাকায় স্থায়ীভাবে বসবাস করেন। উল্লেখ্য যে, বাংলাদেশের চট্টগ্রামের চট্টেশ্বরী রোডে তাঁর নিজ বাসভবন রয়েছে।

# লেখালেখিঃ
বিরল প্রতিভার অধিকারী এই মানুষটি শিক্ষকতার পাশাপাশি লেখালেখিতেও নিজেকে নিয়োজিত রাখেন সবসময়। তিনি লন্ডনের জনপ্রিয় পত্রিকা ‘Eastern Standard’ এবং লন্ডনের বাংলা পত্রিকা ‘জনমত’ সহ বিভিন্ন পত্রিকায় লেখালেখি করেন। ‘Eastern Standard’ পত্রিকায় তাঁর লেখা ‘Leadership’ বিষয়ক কলামটি লন্ডনে ব্যাপক সমাদৃত হয়। জামাল উদ্দীন চৌধুরীর লেখালেখির মূল উপজীব্য বিষয় ছিল একমাত্র শিক্ষা।

# সাংগঠনিক সম্পৃক্ততাঃ
তিনি National Union of Teachers London (NUT) এর নির্বাহী সদস্য এবং Bangladeshi Teachers Association London (BTA) এর সিনিয়র সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাছাড়া তিনি লন্ডনের Edexel Examiner হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

%d bloggers like this: